গ্রামীণ ও পরিবেশ সাংবাদিকতায় সেরার শিরোপা আজ কার হাতে? জেনে নিন, ঐতিহ্যের স্টেটসম্যান পুরস্কারের সব খুঁটিনাটি

The Statesman Rural Reporting Award 2026 (Generative AI)

দেশের প্রাচীনতম ইংরেজি সংবাদপত্রগুলির অন্যতম দ্য স্টেটসম্যান (The Statesman)। সাংবাদিকতার স্বীকৃতি দেওয়ার ক্ষেত্রেও এই সংস্থার ভূমিকা দীর্ঘদিনের। বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, কলকাতায় হতে চলেছে সেই স্বীকৃতি অনুষ্ঠান। গ্রামীণ রিপোর্টিং (Rural Reporting) এবং পরিবেশ সাংবাদিকতায় (Environmental Reporting) সেরাদের হাতে তুলে দেওয়া হবে পুরস্কার। ঠিক কী কী থাকছে এই আয়োজনে?

নেপথ্যে পাঁচ দশকের ইতিহাস

গ্রামীণ ভারতের আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে এই পুরস্কার চালু করেছিল দ্য স্টেটসম্যান। উদ্দেশ্য ছিল একটাই, গ্রাম ভারতের (Rural India) প্রকৃত ছবি তুলে ধরা সাংবাদিকদের কাজকে স্বীকৃতি দেওয়া। পরবর্তী কালে এর সঙ্গে যুক্ত হয় সিআর ইরানি ফাউন্ডেশনের (CR Irani Foundation) উদ্যোগ। পরিবেশ সংক্রান্ত অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের (Investigative reporting) জন্য চালু হয় পৃথক বিভাগ। বহু বছর ধরে এই দুই পুরস্কার মিলিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের সাংবাদিকদের স্বীকৃতি দিয়ে আসছে সংস্থাটি।


পুরস্কারের পাঁচালি

গ্রামীণ রিপোর্টিং বিভাগে মোট তিনটি পুরস্কার দেওয়া হয়। প্রথম পুরস্কারের অর্থমূল্য ২৫ হাজার টাকা। দ্বিতীয় পুরস্কার ১৫ হাজার এবং তৃতীয় পুরস্কার ১০ হাজার টাকা। অন্য দিকে, সিআর ইরানি পরিবেশ সাংবাদিকতা পুরস্কারের (Cushrow Irani Prize for Environmental Reporting) অর্থমূল্য ২৫ হাজার টাকা। ২০২৫ সালে ভারতের যে কোনও সংবাদপত্র বা পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন এই প্রতিযোগিতায় বিবেচিত হয়েছে। ইংরেজি কিংবা যে কোনও আঞ্চলিক ভাষার (Regional language) লেখাও গ্রহণযোগ্য ছিল এই তালিকায়।

কী ভাবে বেছে নেওয়া হয় বিজয়ীদের

সামাজিক প্রাসঙ্গিকতা, তথ্যের যাথ্যার্থ, পেশাদারি নিষ্ঠা এবং লেখার মান, এই কয়েকটি মাপকাঠিতেই বিচার করা হয় প্রতিটি প্রবেশিকা। পরিবেশ বিভাগে অতিরিক্ত জোর দেওয়া হয় গবেষণার গভীরতার উপর। শুধুমাত্র মূল প্রকাশিত প্রতিবেদনের কাটিং জমা নেওয়া হয়েছিল, প্রতিলিপি বা ফটোকপি গ্রাহ্য হয়নি। যাঁরা একই প্রতিবেদন দুই বিভাগের জন্যই পাঠাতে চেয়েছেন, তাঁদের আলাদা আলাদা প্রবেশিকা জমা দিতে হয়েছে।

কী থাকছে নজরে

গত কয়েক বছরের ধারা মেনে দেখলে, এই ধরনের অনুষ্ঠানে সাধারণত উপস্থিত থাকেন সংস্থার সম্পাদকমণ্ডলী, বিচারকমণ্ডলীর সদস্য এবং বিশিষ্ট অতিথিরা। বিজয়ীদের হাতে তুলে দেওয়া হয় শংসাপত্র, স্মারক এবং নগদ পুরস্কার। একই মঞ্চে অনেক সময় আয়োজিত হয় সাংবাদিকতা নিয়ে আলোচনাসভাও, যেখানে উঠে আসে গ্রামীণ ভারত এবং পরিবেশ সংক্রান্ত সাংবাদিকতার বর্তমান চ্যালেঞ্জের কথা।

অতীতের বিজয়ীরা কী বলছেন

আগের বছরগুলিতে এই পুরস্কার পেয়েছেন এমন বেশ কয়েকজন সাংবাদিক নিজেদের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন। কেউ লিখেছেন সুন্দরবনের বাঘ-বিধবাদের লড়াই নিয়ে, কেউ আবার তুলে ধরেছেন ওড়িশার আদিবাসী ও দলিত অধ্যুষিত এলাকায় স্কুল বন্ধ হয়ে যাওয়ার যন্ত্রণা। গোয়ার কয়লা আমদানি ঘিরে দূষণের প্রতিবেদন লিখে পুরস্কৃত হয়েছেন একজন, যাঁর লেখার জেরেই পরবর্তী কালে প্রশাসন কড়া পদক্ষেপ করতে বাধ্য হয়েছিল। এই ধরনের প্রতিবেদনই বুঝিয়ে দেয়, কেন এই পুরস্কারের গুরুত্ব এত গভীর। এত তাৎপর্যের। এ বছরও তার ব্যতিক্রম হবে না।