তৃণমূল কংগ্রেসের আমলে অর্জুন সিংহের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা দায়ের হয়েছিল। সেইসব মামলা দায়ের করেছিল কখনও ভাটপাড়া থানার পুলিশ, তো কখনও আবার জগদ্দল ও নৈহাটি থানা। সেই সমস্ত মামলাগুলিকে চ্যালেঞ্জ করেই কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন অর্জুন সিং। দীর্ঘদিন সেই মামলাগুলি নিম্ন আদালতে এবং সর্বোপরি কলকাতা হাইকোর্টে শুনানি চলে। রাজ্যের পালাবদলের পর ক্ষমতায় এখন বিজেপি।
বিজেপি বিধায়ক তথা পরিবহণমন্ত্রী অর্জুন সিংহের বিরুদ্ধে চলা একসঙ্গে ১০টি ফৌজদারি মামলাতেই ‘মিস্টেক অব ফ্যাক্ট’ (ভুল তথ্য)-এর রিপোর্ট জমা দিল পুলিশ। তদন্ত শেষে প্রতিটি মামলাতেই ‘ফাইনাল রিপোর্ট’ পেশ করা হয়েছে সংশ্লিষ্ট নিম্ন আদালতে। বৃহস্পতিবার কলকাতা হাইকোর্টে এই তথ্য জানানো হল। এরপরেই মামলাগুলিতে আর কোনও নির্দেশের প্রয়োজন নেই বলে জানিয়ে মামলার নিষ্পত্তি করে দিলেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য।
এ দিন বিচারপতি ভট্টাচার্যের এজলাসে মামলাটি উঠলে অর্জুনের হয়ে আইনজীবী ময়ূখ মুখোপাধ্যায় ২৪ জুনের আদালতের নির্দেশের প্রসঙ্গ তোলেন। রাজ্যের হয়ে আইনজীবী সূর্যনীল দাস আদালতকে জানান, অর্জুনের বিরুদ্ধে থাকা ১০টি মামলাতেই তদন্ত শেষ হয়েছে। প্রতিটি মামলাতেই তদন্তের পর ‘মিস্টেক অব ফ্যাক্ট’ উল্লেখ করে চূড়ান্ত রিপোর্ট পেশ করা হয়েছে।
ব্যারাকপুরের পুলিশ কমিশনারের ২৬ জুলাইয়ের রিপোর্টেও বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়েছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, অর্জুন সিংহের বিরুদ্ধে বিচারাধীন থাকা ১০টি ফৌজদারি মামলার তদন্ত সম্পূর্ণ করার পর সংশ্লিষ্ট প্রতিটি মামলাতেই ‘মিস্টেক অব ফ্যাক্ট’ (ভুল তথ্য) জমা দেওয়া হয়েছে নিম্ন আদালতে। পুলিশের এই রিপোর্ট আদালতের নজরে আসার পর বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য জানান, সব কটি ফৌজদারি মামলাতেই যখন ফাইনাল রিপোর্ট মিসটেক অফ ফ্যাক্ট (FRMF) জমা পড়েছে, তখন রিট মামলায় আর কোনও নির্দেশ দেওয়ার প্রয়োজন নেই।
আরও পড়ুন: ভয়াবহ হড়পা বানে নিখোঁজ ৩০০-র বেশি ভারতীয়, কী জানাচ্ছেন নেপালের বিদেশমন্ত্রী?
এরপরই পুলিশের সক্রিয়তা মামলা নিষ্পত্তি করে দেয় হাইকোর্ট। অর্থাৎ, দীর্ঘদিন ধরে চলা ১০টি ফৌজদারি মামলার ক্ষেত্রেই তদন্তের শেষে পুলিশের দাবি, অভিযোগগুলির ভিত্তি ‘ভুল তথ্য’। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতেই আপাতত কলকাতা হাইকোর্টে মামলাটির ইতি।