বিগত জমানায় শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় আদালতের নির্দেশে প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীর চাকরি বাতিল হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে যোগ্য বলে চিহ্নিত একাংশকে সাময়িকভাবে চাকরি চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। তবে সেই অন্তর্বর্তীকালীন সময়সীমাও শেষ হতে চলেছে আগামী ৩১ আগস্ট। এর মধ্যেই নতুন করে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ না হলে স্কুলগুলিতে পঠনপাঠন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করার জন্য আরও সময় চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হল পশ্চিমবঙ্গ স্কুল সার্ভিস কমিশন এবং মধ্যশিক্ষা পর্ষদ।
সূত্রের খবর, নতুন করে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করার জন্য ২০২৭ সালের এপ্রিল পর্যন্ত সময় চেয়ে সুপ্রিম কোর্টে মিসলেনিয়াস অ্যাপ্লিকেশন জমা দিয়েছে স্কুল সার্ভিস কমিশন। অন্যদিকে, মধ্যশিক্ষা পর্ষদের তরফে ২০২৭ সালের মে পর্যন্ত সময় চাওয়া হয়েছে।
ওবিসি সংরক্ষণ সংক্রান্ত সংশোধনের কারণেও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সাময়িক জটিলতা তৈরি হয়েছিল। সংরক্ষণের হার ১৭ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৭ শতাংশ করার পর সংশোধিত নিয়ম মেনে নিয়োগ প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যেতে কিছুটা সময় লেগেছে কমিশনের। সেই কারণেই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পূর্ণ নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করা সম্ভব হয়নি বলে জানা যাচ্ছে।
এরই মধ্যে বুধবার একটি নির্দেশিকা জারি করেছে স্কুল সার্ভিস কমিশন। সেখানে জানানো হয়েছে, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির সহকারী শিক্ষক পদে আবেদনকারী প্রার্থীরা তাঁদের ক্যাটেগরি এবং সাব-ক্যাটেগরি সংক্রান্ত তথ্য সংশোধন বা আপডেট করার সুযোগ পাবেন। এর জন্য নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ‘এডিট অপশন’ ব্যবহার করতে হবে।
উল্লেখ্য, শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে প্রায় ২৬ হাজার চাকরি বাতিল হয়েছিল। আদালত জানিয়েছিল, যোগ্য এবং অযোগ্য প্রার্থীদের আলাদা করে চিহ্নিত করা সম্ভব না হওয়ায় গোটা প্যানেল বাতিল করা হচ্ছে।
পরবর্তী সময়ে আইনি লড়াই এবং মানবিক দিক বিবেচনা করে যোগ্য বলে চিহ্নিত শিক্ষকদের একটি তালিকা তৈরি করা হয়। তাঁদের নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীনভাবে স্কুলে কাজ চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেয় শীর্ষ আদালত। সেই অনুমতির মেয়াদ ৩১ আগস্ট শেষ হওয়ার কথা।
ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ না হলে বিপুল সংখ্যক শিক্ষককে স্কুলে রাখা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে। তার জেরে রাজ্যের বিভিন্ন স্কুলে পঠনপাঠন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সেই পরিস্থিতি এড়াতেই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করার জন্য অতিরিক্ত সময় চেয়ে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছে কমিশন ও মধ্যশিক্ষা পর্ষদ।