SRFTI-তে ছাত্রদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপের কারণ ভাঙচুর ও মারধর, দাবি কর্তৃপক্ষের

সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউটের (SRFTI) কয়েকজন পড়ুয়ার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপের কারণ হিসেবে ভাঙচুর, সরকারি সম্পত্তির ক্ষতি এবং শারীরিক হেনস্থার অভিযোগকে সামনে আনল কর্তৃপক্ষ। ছাত্রদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের অধিকারের সঙ্গে এই পদক্ষেপকে যুক্ত করা বাস্তব পরিস্থিতির ভুল ব্যাখ্যা বলে দাবি ইনস্টিটিউটের। রবিবার রেজিস্ট্রার দীপক কুমারের স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এই অবস্থান স্পষ্ট করা হয়েছে।

বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ইনস্টিটিউটের উপাচার্যের দফতর দখল ও ভাঙচুরের অভিযোগের ভিত্তিতে শাস্তিমূলক প্রক্রিয়া শুরু হয়। ওই দফতরের জানলার কাচ ভাঙা, আসবাবপত্রের ক্ষতি এবং জল ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার পাইপলাইন কেটে দেওয়ার অভিযোগও তোলা হয়েছে। পাশাপাশি, উপাচার্যকে এক পড়ুয়ার শারীরিকভাবে হেনস্থা করা এবং অন্যদের ঘেরাও, ভয় দেখানো ও গালিগালাজের অভিযোগের কথাও উল্লেখ করেছে কর্তৃপক্ষ।

ইনস্টিটিউটের দাবি, ১৫ অক্টোবরের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতেও এই ঘটনাগুলির কথা জানানো হয়েছিল। ঘটনার তদন্তে গঠিত ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং কমিটির সদস্যদের পাশাপাশি ডিন, বিভিন্ন বিভাগের প্রধান এবং রেজিস্ট্রারকে নিয়ে গঠিত ডিনস কাউন্সিল শাস্তিমূলক পদক্ষেপের সুপারিশ করে। ইনস্টিটিউটের বিধি ও পড়ুয়াদের আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগেই রুস্টিকেশন ও শোকজ নোটিস জারি করা হয়েছে বলে বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।


এদিকে, ফিল্ম এবং ইলেকট্রনিক অ্যান্ড ডিজিটাল মিডিয়া বিভাগে ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত পঠনপাঠন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পড়ুয়াদের ইনস্টিটিউট চত্বর ও হস্টেল ছাড়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে এনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কাজকর্ম সুষ্ঠুভাবে চালানোর জন্যই এই সিদ্ধান্ত। নির্দেশ সত্ত্বেও কয়েকজন পড়ুয়া বেআইনিভাবে ক্যাম্পাস দখল করে রয়েছেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

তবে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ ও নিজেদের দাবি জানানোর অধিকারকে স্বীকার করেছে SRFTI। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, শান্তিপূর্ণ আন্দোলন কখনওই শাস্তিমূলক পদক্ষেপের কারণ হতে পারে না। কিন্তু আন্দোলনের অধিকার থাকলেও ভাঙচুর, শারীরিক হেনস্থা বা প্রতিষ্ঠানের বিধি লঙ্ঘনের দায় এড়ানো যায় না। আন্দোলনে অংশ নেওয়া একটি অংশের মতামতকে গোটা ছাত্রসমাজের অবস্থান বলে ধরে নেওয়া উচিত নয় বলেও দাবি কর্তৃপক্ষের।

বিবৃতিতে SRFTI-র অন্যান্য শিক্ষামূলক উদ্যোগের কথাও তুলে ধরা হয়েছে। ত্রিপুরা সরকারের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে আগরতলায় ত্রিপুরা ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনায় সহযোগিতা এবং নাগাল্যান্ডের ডিমাপুরে ভারতীয় সেনার স্পিয়ার কর্পসের সঙ্গে যৌথভাবে দুই সপ্তাহের মিডিয়া ইন্টার্নশিপ কর্মসূচি পরিচালনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

সব পক্ষকে যাচাই না করা তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্তে না পৌঁছনোর আবেদন জানিয়েছে SRFTI কর্তৃপক্ষ। শিক্ষার পরিবেশ, প্রতিষ্ঠানের নিয়মানুবর্তিতা এবং পড়ুয়া-সহ সকলের নিরাপত্তা ও মর্যাদা বজায় রেখে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনাই তাদের লক্ষ্য বলে বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।