ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার অভিনেত্রী শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক। এই হিসাবেই ইন্ডাস্ট্রিতে তাঁর পরিচয়। হাওড়ার চ্যাটার্জিহাট থানার পুলিশ গ্রেফতার করেছে তাঁকে। তাঁর বিরুদ্ধে জামিনঅযোগ্য ধারায় মামলা শুরু হয়েছে বলে শোনা যাচ্ছে। সোমবার হাওড়া আদালতে তাঁকে হাজির করানো হয়েছে।
এখনও এই ঘটনা নিয়ে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি পুলিশ, অভিযুক্ত বা অভিযোগকারিণীর পরিবারের তরফে। পুলিশ সূত্রে খবর, একটি ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সংস্থায় কাজ করেন অভিযুক্ত। অভিযোগকারিণী তাঁরই সহকর্মী বলে জানা গিয়েছে।
অভিযোগকারিণী জানান, কোনও একটি কাজে গত ১২ এপ্রিল চ্যাটার্জিহাট এলাকায় অভিযুক্তের বাড়িতে গিয়েছিলেন। সেখানেই অভিযুক্ত ওই মহিলাকে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ। এর পর গত ১২ জুন ওই মহিলা চ্যাটার্জিহাট থানায় তাঁর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
এর প্রেক্ষিতে পুলিশ একটি ধর্ষণের মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করে। রবিবার রাতে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে ধর্ষণ-সহ একাধিক জামিনঅযোগ্য ধারায় মামলা শুরু করে পুলিশ। সোমবার ধৃতকে হাওড়া আদালতে হাজির করানো হয়। এই বিষয়ে বিশদে জানতে অভিনেত্রী শ্রাবন্তীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। এই ঘটনা নিয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন অভিনেত্রী। এই ঘটনার পরই সামাজিক মাধ্যমে একটি দীর্ঘ বিবৃতি প্রকাশ করে অভিনেত্রী জানান, আপাতত তিনি অর্ঘ্যকে তাঁর ম্যানেজারের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিচ্ছেন।
শ্রাবন্তীর পোস্ট অনুযায়ী, ২০২৪ সাল থেকে তাঁর কাজের সূচি, অনুষ্ঠান এবং পেশাগত দায়িত্ব সামলানোর জন্য ‘ট্যালেন্টওয়ালা’ সংস্থার মাধ্যমে অর্ঘ্য মুখোপাধ্যায়কে তাঁর ম্যানেজার হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছিল। সম্প্রতি তাঁর বিরুদ্ধে একটি ফৌজদারি মামলা চলছে বলে জানতে পারেন অভিনেত্রী। এরপরই তিনি সিদ্ধান্ত নেন, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত অর্ঘ্য আর তাঁর ম্যানেজার হিসেবে কাজ করবেন না। একই সঙ্গে বিষয়টি ‘ট্যালেন্টওয়ালা’ সংস্থাকেও আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করেছেন তিনি।
শ্রাবন্তী আরও স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, অর্ঘ্যের ব্যক্তিগত আচরণ বা তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তাঁর কোনও ব্যক্তিগত জ্ঞান বা মন্তব্য নেই। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করেই এই প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান অভিনেত্রী। বিবৃতির শেষে তিনি লেখেন, বিষয়টি সকলের অবগতির জন্যই প্রকাশ করা হচ্ছে।
এই ঘটনার বিষয়ে এখনও পর্যন্ত পুলিশ তদন্তের স্বার্থে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি। অভিযোগকারিণী বা অভিযুক্তের পরিবারের তরফেও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি।