পুলিশের চোখ এড়িয়ে ফের সমাজমাধ্যমে লাইভে এসে বিস্ফোরক অভিযোগ করলেন বিশ্বজিৎ পোদ্দার ওরফে ‘সোনা পাপ্পু’। একদিকে যখন তাঁকে খুঁজে পাচ্ছে না পুলিশ এবং তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েও হদিশ মেলেনি, ঠিক তখনই তাঁর এই লাইভ ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা ছড়াল রাজ্য রাজনীতিতে।
লাইভে এসে পাপ্পু দাবি করেন, বাধ্য হয়েই তিনি প্রকাশ্যে আসছেন। সরাসরি বিজেপি নেতা রাকেশ সিংহের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, রাকেশের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর মামলা থাকা সত্ত্বেও তাঁকে ‘দুষ্কৃতী’ বলা হচ্ছে না। উল্টে তাঁকেই বারবার লক্ষ্য করে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে দাবি করেন পাপ্পু।
পাপ্পুর কথায়, ‘যদি আমার নামে কোনও থানায় তোলাবাজির একটি মামলাও প্রমাণিত হয়, আমি চরম শাস্তি মেনে নেব।’ একইসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, রাকেশের বিরুদ্ধে তোলাবাজি ও অন্য অপরাধের অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তাঁকে রাজনৈতিকভাবে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এখানেই থামেননি তিনি। তাঁর দাবি, রাকেশ সিংহের সঙ্গে শুভেন্দুর যোগ রয়েছে। সেই কারণেই তাঁকে রাজনৈতিকভাবে এগিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এই প্রসঙ্গে পাপ্পু বলেন, ‘সব কিছু জানার পরেও কেন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না?’
লাইভে তিনি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার বিরুদ্ধেও গুরুতর অভিযোগ তোলেন। তাঁর দাবি, তাঁর বাড়িতে তল্লাশির সময় তাঁর স্ত্রী ও বৃদ্ধ বাবাকে ‘অত্যাচার’ করা হয়েছে। প্রায় ১৪ ঘণ্টা ধরে তাঁদের বসিয়ে রাখা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর কথায়, ‘আমার ৮০ বছরের বাবাকে জল দেওয়া হয়নি। শৌচালয়ে যেতে দেওয়া হয়নি।’
পাপ্পু আরও দাবি করেন, তল্লাশির সময় কোনও বেআইনি জিনিস না পেয়ে তাঁকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। এমনকি তদন্তকারীদের বিরুদ্ধে প্রমাণ নষ্ট করারও অভিযোগ তোলেন তিনি। এই ঘটনার মধ্যে দিয়ে আবার সামনে এসেছে সার্বিক তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন। একদিকে যখন তাঁকে গ্রেপ্তার করা যায়নি, অন্যদিকে তাঁর বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা ও নথি উদ্ধার হয়েছে বলে তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে।
রবীন্দ্র সরোবরের ঘটনার পর থেকেই তাঁর নাম ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিযোগ, দক্ষিণ কলকাতার একাধিক এলাকায় তিনি সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করেন। যদিও লাইভে এসে তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই ঘটনার প্রভাব আসন্ন নির্বাচনে পড়তে পারে। বিশেষ করে যখন সাধারণ মানুষের সামনে এমন অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগ উঠে আসছে, তখন তা ভোটের আগে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে।
সব মিলিয়ে ‘সোনা পাপ্পু’র এই লাইভ রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে আলোড়ন ফেলেছে। এখন তদন্তের গতিপথ কোন দিকে যায়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন সকলে।