যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে বুধবার রাত থেকে তৈরি হওয়া উত্তেজনা এবং হামলার ঘটনায় সরব হলেন সিপিআই(এম)-এর রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। তাঁর অভিযোগ, যাদবপুরে যে হামলা হয়েছে তা কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। দেশের শিক্ষা ও সংস্কৃতির কেন্দ্রগুলিতে গত কয়েক বছর ধরে যে ধরনের আক্রমণ চলছে, এই ঘটনাও তারই অংশ। মুক্ত চিন্তা, গণতান্ত্রিক পরিবেশ এবং প্রশ্ন করার অধিকার যেখানে রয়েছে, সেখানেই ফ্যাসিস্ট শক্তি আক্রমণ চালাচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
বৃহস্পতিবার মুজফফর আহমদ ভবনে সাংবাদিক বৈঠকে সেলিম বলেন, ‘যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে যে ভাবে আক্রমণ করা হচ্ছে, তা নিন্দাজনক। হস্টেলে, পড়ুয়াদের উপর আক্রমণ হয়েছে। অরবিন্দ ভবনে আগুন লাগানোর চেষ্টা হয়েছিল। এটা কোনও বিক্ষিপ্ত ঘটনা নয়।’
সেলিমের বক্তব্য, ‘যেখানে মুক্তমনা, গণতান্ত্রিক পরিবেশ থাকে, চিন্তাভাবনা করার পরিসর থাকে, সেখানেই ফ্যাসিস্ট শক্তি বার বার আক্রমণ করে।’ যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের প্রসঙ্গ তুলে তাঁর দাবি, ইংরেজের শিক্ষাব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ করেই মানুষের সহযোগিতায় এই শিক্ষাকেন্দ্র গড়ে উঠেছিল। ত্রিগুণা সেনের মতো ব্যক্তিত্বের সঙ্গে এই প্রতিষ্ঠানের ইতিহাস জড়িয়ে রয়েছে।
যাদবপুরের ঘটনায় বিজেপি এবিভিপি-র দায় ঝেড়ে ফেলার চেষ্টা করছে বলেও মন্তব্য করেন সেলিম। বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তাঁর প্রশ্ন, ‘তা হলে বিজেপি বিধায়করা কী করছেন?’ তাঁর দাবি, বিজেপি এবং আরএসএসের মধ্যে সম্পর্ক নেই—এই বক্তব্য বিশ্বাসযোগ্য নয়। সেলিমের কটাক্ষ, ‘যে ভাবে শমীক ভট্টাচার্য বলছেন, এবিভিপি-র সঙ্গে বিজেপির কোনও সম্পর্ক নেই, এক দিন বিজেপিও বলতে পারে, শমীক ভট্টাচার্যের সঙ্গেই বিজেপির কোনও সম্পর্ক নেই।’
সেলিমের কথায়, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় বা জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো প্রতিষ্ঠানে মুক্ত চিন্তা, গবেষণা এবং প্রশ্ন করার পরিবেশ থাকায় সেগুলিকেই নিশানা করা হচ্ছে। তাঁর দাবি, ‘আরএসএস এবং ফ্যাসিস্ট শক্তির বিরুদ্ধে যারা আছেন, তাঁদের সবাইকে নিয়ে এই আক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই হবে।’
শিল্পক্ষেত্রে শ্রমিকের মৃত্যু এবং একের পর এক অগ্নিকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনেও রাজ্য সরকারকে নিশানা করেন সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক। তাঁর অভিযোগ, ‘এই সরকার মানুষ বাঁচানোর বদলে মানুষ মারছে। মানুষ আগুনে পুড়ে মারা যাচ্ছে।’ তাঁর দাবি, সরকার বদলালেও ব্যবস্থার কোনও পরিবর্তন হয়নি, ‘লুঠ চলছে, লোক বদলেছে শুধু।’ সেলিমের অভিযোগ, ‘সরকার রিয়েল ইস্যু ভুলে রিল ইস্যু করছে।’
এ দিন উত্তর ২৪ পরগনা জেলা পরিষদ দপ্তরে তিতুমীরের ছবি ভাঙার অভিযোগ নিয়েও প্রশ্ন করা হয় সেলিমকে। তিনি বলেন, তিতুমীর ছিলেন ব্রিটিশ-বিরোধী সংগ্রামের অন্যতম শহীদ। বাঁশের কেল্লা তৈরি করে তিনি ইংরেজ বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করেছিলেন। তাঁর অভিযোগ, আরএসএসের অনুগামী একটি সংগঠন তিতুমীরের ছবি নামিয়ে ভেঙে বাইরে ফেলে দিয়েছে। পুলিশ ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে ছবিটি সরিয়ে রাখা কর্মীদেরই শাসানো হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
এই প্রসঙ্গেই ইতিহাস বিকৃতির অভিযোগ তুলে সেলিম বলেন, ব্রিটিশ-বিরোধী সংগ্রামের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিত্বদের ইতিহাস মুছে ফেলার চেষ্টা হচ্ছে। কর্নাটকে হায়দর আলি ও টিপু সুলতানের নাম মুছে ফেলার চেষ্টার প্রসঙ্গও টানেন তিনি। তাঁর দাবি, ‘যত চেষ্টাই চলুক, ব্রিটিশের বিরুদ্ধে সংগ্রামের ইতিহাস ভুলিয়ে দেওয়া যাবে না।’