ধর্ষণ-যৌন হেনস্থার মামলা, ভয় দেখিয়ে তোলাবাজির অভিযোগ! সন্তোষপুর থেকে গ্রেফতার মহিলা

প্রতীকী চিত্র

ধর্ষণ-যৌন হেনস্থার অভিযোগ তুলে অন্যের নামে একের পর এক ভিত্তিহীন মামলা, এবং সেই মামলার ভয় দেখিয়ে তোলাবাজির অভিযোগ। দীর্ঘদিন ধরেই এই অপরাধ চালাচ্ছিলেন রাগেশ্রী নাগ নামে এক মহিলা। এবার দক্ষিণ কলকাতার সন্তোষপুর থেকে পঞ্চসায়র থানার পুলিশের হাতে গ্রেফতার অভিযুক্ত।

শুক্রবার সন্তোষপুর ইস্ট রোডে তাঁর বাড়ির সামনে অভিযান চালায় পুলিশ। পঞ্চসায়র থানার ২২ নম্বর মামলায় তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শনিবার আলিপুরের আদালতে পেশ করলে পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।

পুলিশ সূত্রে খবর, ৯ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে রাগেশ্রীর বিরুদ্ধে একটি মামলা নথিভুক্ত হয়েছিল। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৩০৮(৭) ও ৩৫১(২) ধারায় মামলা হয়। আদালতের নির্দেশে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৭৫(৩) ধারায় মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়।


অভিযোগ, মামলার অভিযোগকারিণীর স্বামী ছিলেন ধৃত মহিলার প্রাক্তন চিকিৎসক। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে তাঁকে হেনস্থা ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। টাকা না দিলে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ।

পুলিশের দাবি, তদন্তে ধৃত মহিলার সরাসরি যোগ থাকার তথ্য মিলেছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এখন তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে গোটা চক্রের খোঁজ চালানো হচ্ছে।

তদন্তকারীদের আরও দাবি, রাগেশ্রীর বিরুদ্ধে আগেও তোলাবাজির দুটি মামলা রয়েছে। ওই মামলাগুলির অভিযোগকারীদের একাংশের দাবি, ধর্ষণের মামলা করার ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়ের চেষ্টা হয়েছিল। সেই অভিযোগও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, এখনও পর্যন্ত প্রায় ১৪ জনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও যৌন হেনস্থার অভিযোগে মোট ১১টি মামলা করেছেন রাগেশ্রী। অভিযোগগুলির সত্যতা এবং মামলাগুলির পিছনে কোনও নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ঘটনাটি নিয়ে সমাজমাধ্যমেও সরব হয়েছেন সমাজকর্মী দীপিকা নারায়ণ ভরদ্বাজ।

তাঁর দাবি, কলকাতায় একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ওই মহিলা ধর্ষণ-সহ গুরুতর অভিযোগে মামলা করেছেন। পুলিশ আধিকারিকদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও তুলেছেন তিনি।

এক জাতীয় স্তরের খেলোয়াড়ের বিরুদ্ধে দায়ের করা ধর্ষণ মামলাকেও ‘মিথ্যা’ বলে দাবি করেছেন দীপিকা। তাঁর অভিযোগ, ওই মামলার জেরে সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড়ের বিদেশযাত্রাতেও সমস্যা তৈরি হয়েছে। তবে এই দাবির সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

দীপিকার ওই সমাজমাধ্যম পোস্টে প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত আইপিএস আধিকারিক আর কে বিজ। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন তিনি। ফলে পঞ্চসায়রের মামলার পাশাপাশি পুরনো অভিযোগগুলিও এখন তদন্তের আওতায়।

পুলিশ জানিয়েছে, ধৃত মহিলার বিরুদ্ধে ওঠা তোলাবাজির অভিযোগের পাশাপাশি আগের মামলাগুলির নথিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে তাঁর দায়ের করা ধর্ষণ ও যৌন হেনস্থার মামলাগুলির সত্যতাও যাচাই করা হবে।