জেন জি-দের আন্দোলনের চাপে অবশেষে পদত্যাগের পথ বেছে নিলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। শনিবার দুপুরে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকের আগে নিজেই শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ালেন তিনি। এ বিষয়ে এক্স হ্যান্ডলে তিনি একটি পোস্টও করেছেন। এবার কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের প্রসঙ্গ টেনে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় তীব্র আক্রমণ শানালেন। তাঁর বক্তব্য, ‘আগেই যদি তিনি ইস্তফা দিতেন, তাহলে এত গণ্ডগোল হত না। কোনও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর পদত্যাগ করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে যায়।’ তাঁর দাবি, অভিযোগ সামনে আসার আগেই পদত্যাগ করলে এত বিতর্কের সৃষ্টি হত না।
এদিন এসএসকেএম হাসপাতালে সাংবাদিকদের উপর হামলার ঘটনাতেও তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান বিরোধী দলনেতা। তিনি বলেন, ‘মাখনবাবুর মোবাইলে ধরা পড়া চলমান ভিডিওই দুষ্কৃতীদের চিহ্নিত করার জন্য যথেষ্ট।’ তাঁর অভিযোগ, সাংবাদিকদের মোবাইল কেড়ে নেওয়া, জুতো খুলে নেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে। তিনি বলেন, ‘এটা কোনও আন্দোলন নয়, হুলিগানিজম। পরিকল্পিতভাবে অরাজকতা কায়েমের চেষ্টা হয়েছে।’
বর্ষীয়ান সিপিআইএম নেতা শমীক লাহিড়ীর ভাইরাল ভিডিও প্রসঙ্গেও তিনি কড়া ভাষায় বলেন, ‘যাঁরা ভাবছেন যা ইচ্ছে তাই করা যাবে, তাঁরা ভুল করছেন। বিপ্লবের নামে তাণ্ডব, লুটপাট বা ছিনতাই কখনও আন্দোলন হতে পারে না।’
কুণাল ঘোষের ‘ডিম থেরাপি’ মন্তব্য নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘কুণাল ঘোষ দিনে কতবার কী বলেন, তার হিসেব নেই। তাই তাঁর মন্তব্যের জবাব দেব না।’ তবে তাঁর স্পষ্ট দাবি, তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের উপর হামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা করা হচ্ছে। দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ প্রসঙ্গে তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে সংসদে তাঁদের দলের সাংসদরা সরব হবেন।
আরও পড়ুন: ‘আমায় বলতে দেওয়া হচ্ছে না, এটা পরিকল্পিত চক্রান্ত’, বিস্ফোরক কুণাল ঘোষ
মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষিত গুন্ডা দমন আইনের প্রয়োগের প্রসঙ্গে বিরোধী দলনেতার বক্তব্য, ‘এই ধরনের ঘটনায় গুন্ডা দমন আইন প্রয়োগ হওয়াই উচিত।’ সেবাশ্রয় প্রকল্প নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, এটি শুধুমাত্র আর্থিক অনিয়ম নয়। তাঁর কথায়, ‘অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে যুক্ত চিকিৎসকেরা সেখানে গিয়েছিলেন কি না, সরকারকে তা খতিয়ে দেখতে হবে। কালো টাকা সাদা করার কোনও প্রক্রিয়া হয়েছে কি না, তাও তদন্ত হওয়া দরকার। ডায়মন্ড হারবার ফুটবল ক্লাব-সহ সম্ভাব্য নেক্সাসের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া উচিত।’ অন্যদিকে, কুণাল ঘোষের অভিযোগ, বিধানসভায় তাঁকে কথা বলতে দেওয়া হয়নি। এই প্রসঙ্গে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘বলবার সুযোগ নিশ্চয়ই পাবেন।’