বাড়ল রাজস্ব আদায়, কমল ঘাটতি, আশাবাদী পুরসভা

নতুন অর্থবর্ষকে সামনে রেখে পেশ হল কলকাতা পুরসভার বাজেট ২০২৬-২৭। মেয়র ফিরহাদ হাকিমের দ্বিতীয় পর্বের এটাই শেষ বাজেট। চলতি বছরের ডিসেম্বরেই বর্তমান পুর-বোর্ডের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা। তাই স্বাভাবিকভাবেই এ বারের বাজেট ঘিরে ছিল আলাদা গুরুত্ব। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে পুরসভার মোট আয় হয়েছে ৫৫২৪.৮৪ কোটি টাকা। ব্যয় হয়েছে ৫৬৩৯.৫৬ কোটি টাকা। অর্থাৎ আয় থেকে ব্যয় কিছুটা বেশি। তবুও উন্নয়নের কাজে কোনও ভাটা পড়বে না বলেই আশ্বাস দিয়েছেন মেয়র। তাঁর দাবি, ঘাটতি থাকলেও পরিষেবা ও পরিকাঠামোর কাজ চালু থাকবে আগের মতোই।

২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে ঘাটতির অঙ্ক কিছুটা কমানো গিয়েছে। আগের বাজেটে যেখানে ঘাটতি ছিল ১১৪.৭২ কোটি টাকা, তা কমে এবার দাঁড়িয়েছে ১১১ কোটি টাকায়। অর্থাৎ ৩.৭২ কোটি টাকার ঘাটতি সামাল দিতে সক্ষম হয়েছে পুরসভা।

এ বারের বাজেটে জল সরবরাহ ও পয়ঃপ্রণালী, রাস্তা সংস্কার ও সংরক্ষণ, বস্তি পরিষেবা, কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, বাণিজ্যিক প্রকল্প ক্ষেত্রের আয়-ব্যয়ের বিস্তারিত চিত্র তুলে ধরেন মেয়র।


রাজ্য সরকারের অনুদানও বেড়েছে এই বাজেটে। ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে এই অনুদান দাঁড়িয়েছে ৩১৩০ কোটি টাকায়, যা গত অর্থবর্ষে ছিল ২৮৯৭ কোটি টাকা। একইভাবে রাজস্ব আদায়ও বৃদ্ধি পেয়েছে।

অতীতের অভিজ্ঞতাও আশাবাদী করছে পুর কর্তৃপক্ষকে। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে ১২৬.৪০ কোটি টাকার ঘাটতি বাজেট পেশ হলেও বছর শেষে ৩৫১.৪৯ কোটি টাকা উদ্বৃত্ত আয় হয়েছিল। ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষেও শেষ পর্যন্ত ৩২০.৩০ কোটি টাকা উদ্বৃত্ত জমা পড়ে কোষাগারে। ফলে ঘাটতি বাজেট মানেই চূড়ান্ত ক্ষতি এমন ধারণা ঠিক নয় বলেই মনে করছেন অনেকে।

এবার নতুন বিল্ডিং রুলসেও রাজ্যের অনুমোদন মিলেছে। পাশাপাশি লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে শহরে নতুন করে যুক্ত হয়েছেন ১ লক্ষ ২৭ হাজার উপভোক্তা। ফলে কলকাতার ১৪৪টি ওয়ার্ড মিলিয়ে মোট উপভোক্তার সংখ্যা এখন ৭ লক্ষ ৮৩ হাজার।

ই-পরিষেবায় জোর দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন মেয়র। মেয়রের বক্তব্য, নাগরিকদের যাতে অযথা পুরসভায় আসতে না হয়, সেই ব্যবস্থাই গড়ে তোলা হচ্ছে। একই সঙ্গে ভাষা বা অন্য কোনও কারণে যাতে কেউ বঞ্চিত না হন, সে বিষয়েও সতর্ক থাকার বার্তা দেন তিনি।

বস্তি উন্নয়ন ‘উত্তরণ’ প্রকল্পেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। রাস্তা সংস্কার, আলো বসানো-সহ নাগরিক পরিকাঠামো শক্তিশালী করাই এখন প্রধান লক্ষ্য এমনটাই স্পষ্ট করেছেন মেয়র। মেয়র বলেন, ‘আয় বাড়াতে অ্যাসেসমেন্ট এরিয়া বাড়ানো হচ্ছে, বিজ্ঞাপনের রেট পরিবর্তন করা হচ্ছে, রাস্তা ধরে ধরে দরপত্র ডাকা হচ্ছে, অবৈধ বিজ্ঞাপনও বন্ধ করা হচ্ছে। ফলে এখান থেকেও পুরসভার রোজগার বাড়বে। ১০০ থেকে ১৫০ কোটি টাকা এর মাধ্যমে বাড়তে পারে।’ এছাড়াও কলকাতাকে দূষণমুক্ত করতে আলাদা করে ৯০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে ঘাটতি থাকলেও উন্নয়ন থামবে না, এই বার্তাই উঠে এল এবারের পুর বাজেটে।