রাজীব কুমার ঠিক কোথায় দাঁড়িয়ে আছেন, সেটা নিয়েই তো সবাই ভাবছিল। তৃণমূল একের পর এক ভেঙে যাচ্ছে, তখন স্বাভাবিকভাবেই তাঁকেও নিয়ে নানা কথা ছড়িয়েছে। পালাবদলের পর থেকে তৃণমূলের কোনো কর্মসূচিতে তাঁর দেখা মেলেনি। ওদিকে গুঞ্জন আরও জোরাল হয়েছে। ঠিক তখনই শহিদ দিবসে এসে রাজীব কুমার পুরো আলোচনা বন্ধ করে দিলেন। মঙ্গলবার বিড়লা তারামণ্ডলে শহিদ দিবসের অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে তিনি সত্যিই সবাইকে চমকে দিলেন।
ওদিকে কালীঘাট তৃণমূল ওই দিন বিড়লা তারামণ্ডলে শহিদ দিবস পালন করেছে। মঞ্চে দেখা গেল, মমতা-ঘনিষ্ঠ সাংসদ, বিধায়করা একে একে পৌঁছে গেছেন। লোকসভার সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আছেন, আছেন মহুয়া মৈত্র, আর মহুয়ার ঠিক পিছনের চেয়ারে রাজীব কুমার বসে আছেন। রাজনীতির কারবারি মহলে অনেকেই বলছেন, তৃণমূলের সাংসদরা যখন একের পর এক দল ছাড়ছেন, তখন রাজীব কুমার নিজেদের দলে থেকে মমতার পাশে থাকার বার্তা দিলেন।
রাজীব কুমারের পরিচয় তাঁর নিজের চেয়েও বড়। তিনি এক সময়ের আইপিএস, রাজ্যের প্রাক্তন ডিজিপি, বহু বড় দায়িত্বে ছিলেন। মমতার সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের কথা সবাই জানে। ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে যখন সিবিআই ছুটে গিয়েছিল তাঁর বাড়ি, তখন মমতা নিজে রাজপথে বসে প্রতিবাদ করেছিলেন—রাজ্যজুড়ে সেই ছবি তখন আলোড়ন তুলেছিল।
এরপর অবসরের পর তৃণমূল তাঁকে রাজ্যসভায় পাঠায়। এপ্রিলে তৃণমূলের টিকিটে রাজ্যসভার সাংসদ হন তিনি। তাঁর সঙ্গে ছিলেন কোয়েল মল্লিকও, যদিও কোয়েল সদ্য পদ ছাড়লেন। তারপর কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে কোয়েলের বৈঠকের খবর আসতেই, সবাই বলতে শুরু করেছে, এবার বুঝি তিনিও বিজেপিতে যাচ্ছেন। আসলে এর আগে তৃণমূলের তিন সাংসদ ইতিমধ্যেই এভাবে দল বদলে বিজেপির টিকিটে রাজ্যসভায় গিয়েছেন।
এদিকে, লোকসভার ২০ জন তৃণমূল সাংসদ যোগ দিয়েছেন এনসিপিআইতে। এত ভাঙনের মধ্যেই রাজীব কুমারকে নিয়েও নানা জল্পনা হচ্ছিল। কারণ, নতুন সরকার আসার পর রাজীব কুমারকে তেমন দেখা যাচ্ছিল না। অনেকেই ভাবছিলেন, এবার বুঝি তিনিও শিবির বদলাবেন। কিন্তু শহিদ দিবসের মঞ্চে এসে রাজীব কুমার আর সব গুঞ্জনে জল ঢেলে দিলেন। তিনি জানিয়ে দিলেন, এখনও মমতার পাশে আছেন—তাঁর অবস্থান পরিষ্কার।