পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার রাজ্যের প্রাক্তণ মন্ত্রী সুজিত বসুর জামিনের আবেদনের শুনানিতে তাঁর পক্ষে সওয়াল করতে গিয়ে সিনিয়র আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি ইডির তদন্ত ও গ্রেফতারির প্রক্রিয়া নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তোলেন। মামলার পরবর্তী শুনানি বৃহস্পতিবার দুপুর ২টায় অনুষ্ঠিত হবে।
আদালতে সুজিত বসুর পক্ষের আইনজীবী সিংভির দাবি, ইডি এই মামলায় স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে তদন্ত শুরু করেনি; আদালতের নির্দেশের পর তদন্ত শুরু হলেও সেই নির্দেশে সুজিত বসুর বিরুদ্ধে পৃথকভাবে তদন্তের কথা উল্লেখ ছিল না।
তিনি আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করে জানান, ২০২৩ সালের ১১ মে ইসিআইআর ইসিআইআর নথিভুক্ত হলেও দীর্ঘ সময় ধরে তদন্তে কোনও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। এছাড়া, ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর দাখিল হওয়া চার্জশিটেও সুজিত বসুর নাম নেই বলে তিনি দাবি করেন।
সিবিআইয়ের অভিযোগপত্রে ২৯টি বেআইনি নিয়োগ, পাঁচু রায় ও অয়ন শীলের বয়ান, আইএএস অফিসার জ্যোতির্ময় চট্টোপাধ্যায় এবং এবিএস ইনফোজনের উল্লেখ থাকলেও সেখানে সুজিত বসুর নাম অন্তর্ভুক্ত নয় বলেও আদালতে দাবি করেন তিনি।
সিংভির বক্তব্য, গত তিন বছরে তাঁর মক্কেল সুজিত বসুকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব, তল্লাশি বা কোনও নথি বাজেয়াপ্ত করার মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি । চলতি বছরের মে মাসে প্রথমবার তাঁকে ডাকা হয় এবং তদন্তে সহযোগিতা করার পর দ্বিতীয়বার তলবের সময় তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। এর আগে ইডি কিছু নথি সংগ্রহ করেছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তদন্তে তথ্যপ্রমাণ নষ্টের অভিযোগের প্রসঙ্গেও প্রশ্ন তোলেন সিংভি। তাঁর বক্তব্য, যদি এমন অভিযোগ সত্যিই থেকে থাকে, তবে এফআইআর, মূল চার্জশিট বা অতিরিক্ত চার্জশিটে সুজিত বসুর নাম কেন নেই, সেই প্রশ্নের উত্তরের প্রয়োজন।
শুনানির সময় বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত সুজিত বসুর বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে সিংভি বলেন, ইডি তাঁকে পুর নিয়োগ দুর্নীতির ‘মাস্টারমাইন্ড’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। গ্রেফতারি মেমোতে ১৫০ জনের বেআইনি নিয়োগের অভিযোগের উল্লেখ রয়েছে।
তবে তাঁর দাবি, অর্থপাচার প্রতিরোধ আইনের আওতায় ইডির তদন্ত ‘প্রেডিকেট অফেন্স’-(অবৈধভাবে অর্থ বা সম্পত্তি উপার্জন )এর ভিত্তিতেই সীমাবদ্ধ থাকা উচিত এবং তাঁর মক্কেল তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করেছেন।মামলার পরবর্তী শুনানি বৃহস্পতিবার দুপুর ২টায় ।