জন্মের বছরেই দশম! নন্দীগ্রামে বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথের হলফনামা ঘিরে হাইকোর্টে মামলা দায়ের

নন্দীগ্রামে বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের এজলাসে দৃষ্টি আকর্ষণ করলেন আইনজীবী তথা কংগ্রেস নেতা ঋজু ঘোষাল। তাঁর বক্তব্যের প্রেক্ষিতে মামলা দায়েরের অনুমতিও দিয়েছেন বিচারপতি।

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ২০২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনে দুটি কেন্দ্র থেকে নির্বাচনে লড়েছিলেন ।একটি ভবানীপুর কেন্দ্র দ্বিতীয়টি নন্দীগ্রাম। তৎকালীন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী তৎকালীন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভবানীপুর কেন্দ্রে পরাজিত করেন। একইসঙ্গে দুটি বিধানসভার দায়িত্ব পালন করা সম্ভব নয়। তাই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তিনি ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্র হাতে রেখে নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্র থেকে ইস্তফা দেন।

রেজিনগর এবং নন্দীগ্রাম এই দুটি বিধানসভার উপনির্বাচনের জন্য ইতিমধ্যেই নির্বাচন কমিশনের তরফ থেকে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিল। নন্দীগ্রামে দীর্ঘদিনের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ছায়া সঙ্গে চন্দ্রনাথ রথের মা হাসিররানী রথকেই প্রার্থী করেছে বিজেপি। তারপর থেকেই একের পর এক বিতর্ক। যার জল গড়ালো কলকাতা হাই কোর্ট পর্যন্ত।


অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে হাসিরানি রথের নির্বাচনী হলফনামায় উল্লেখ করা শিক্ষাগত যোগ্যতার তথ্য। হলফনামা অনুযায়ী, তাঁর বর্তমান বয়স ৬০ বছরের বেশি। সেই হিসাব ধরলে তাঁর জন্মসাল আনুমানিক ১৯৬৫ বা ১৯৬৬। অথচ একই হলফনামায় শিক্ষাগত যোগ্যতার ঘরে উল্লেখ রয়েছে, ১৯৬৫ সালে ‘চৌখালি গঙ্গা পদ্মা মিলন বিদ্যাপীঠ’ থেকে দশম শ্রেণি উত্তীর্ণ/পড়াশোনার তথ্য।
এই তথ্য ঘিরেই উঠেছে মূল প্রশ্ন—জন্মসাল যদি ১৯৬৫ বা ১৯৬৬ হয়, তাহলে ১৯৬৫ সালেই কীভাবে দশম শ্রেণিতে পড়াশোনা বা উত্তীর্ণ হওয়ার তথ্য হলফনামায় থাকতে পারে?

এই অসঙ্গতির ব্যাখ্যা কী? হলফনামায় শিক্ষাগত যোগ্যতার তথ্য দেওয়ার সময় কি কোনও ভুল হয়েছে? নাকি বয়স সংক্রান্ত তথ্যেই রয়েছে কোনও বিভ্রাট? এই প্রশ্নগুলির উত্তরই এখন খুঁজছে আদালত।
বিষয়টি নিয়ে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় হাসিরানি রথের জমা দেওয়া হলফনামার তথ্যের সত্যতা ও সামঞ্জস্য নিয়েই তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। আগামি বৃহষ্পতিবার মামলার শুনানি।