পিলখানায় প্রোমোটার খুনে চাঞ্চল্য, গ্রেপ্তার ৩, মূল অভিযুক্তরা অধরা

হাওড়ার পিলখানা এলাকায় ভোরের অন্ধকারে ২৭ বছর বয়সি প্রোমোটার সফিক খানকে লক্ষ্য করে পরপর গুলি চালিয়ে খুনের ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। প্রকাশ্যে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর এলাকায় আতঙ্ক ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এই খুনের ঘটনায় অবশেষে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে হাওড়া সিটি পুলিশ। যদিও মূল দুই অভিযুক্ত হারুন খান ও রোহিত হোসেন এখনও পলাতক।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার ভোর প্রায় সাড়ে চারটে নাগাদ হাওড়ার পিলখানা এলাকায় নিজের কাজে বেরোনোর সময় সফিক খানের ওপর অতর্কিতে হামলা চালায় দুই দুষ্কৃতী। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, অভিযুক্তরা খুব কাছ থেকে তাঁকে লক্ষ্য করে পরপর কয়েক রাউন্ড গুলি চালায়। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় রক্তাক্ত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন সফিক। স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

ঘটনার পরপরই এলাকায় পৌঁছে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে এবং গোপন সূত্রে খবর পেয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ধৃতরা হলেন মহম্মদ বিলাল, মহম্মদ ওয়াকিল ওরফে মুন্না এবং দিলদার হোসেন। তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, খুনের পর মূল দুই অভিযুক্ত হারুন খান ও রোহিত হোসেন জোড়াসাঁকো এলাকায় বিলালের কাছে আশ্রয় নিয়েছিল। ধৃতদের সঙ্গে পলাতক অভিযুক্তদের দীর্ঘদিনের যোগাযোগ ছিল বলেও সন্দেহ করছে পুলিশ।


প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, নিহত সফিক খানের সঙ্গে এলাকার কিছু দুষ্কৃতীর আর্থিক বিবাদ চলছিল। চাঁদা দাবি এবং টাকা-পয়সা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তাঁকে চাপ দেওয়া হচ্ছিল বলে অভিযোগ পরিবারের। মৃতের পরিবারের দাবি, ‘অনেকদিন ধরেই ওকে টাকা দেওয়ার জন্য হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। সেই কারণেই পরিকল্পনা করে খুন করা হয়েছে।’

এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখান এবং অবরোধ করেন। ঘটনায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। উত্তেজনার মধ্যেই খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে এক সাংবাদিক আক্রান্ত হন বলে অভিযোগ। তাঁকে মারধর করা হয় এবং গুরুতর জখম অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এদিকে, সিসিটিভি ফুটেজে মূল অভিযুক্তদের চলাফেরা স্পষ্টভাবে ধরা পড়েছে। সেই সূত্র ধরে বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, মূল দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করার জন্য একাধিক দল তৈরি করা হয়েছে। খুব শীঘ্রই তাঁদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর পিলখানা এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।