পটাশপুরে গ্রেপ্তার মাওবাদী নেতা আকাশ, জিজ্ঞাসাবাদে একাধিক তথ্যের খোঁজ

PIC- SNS

মাওবাদী নেতা অসীম মণ্ডল ওরফে আকাশ গ্রেপ্তার হওয়ার পর সাংবাদিক সম্মেলনে কলকাতা পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দা জানান, সমাজের মূল স্রোতে ফিরতে চাইলে যে কোনও ব্যক্তিকে ফেরানোর সুযোগ রয়েছে। নিজের ইচ্ছেটাই এ ক্ষেত্রে মূল কথা। অভিযুক্ত মাওবাদী নেতার বিরুদ্ধে এ বার আইনগত প্রক্রিয়া শুরু হবে বলেও জানান তিনি।

পুলিশ কমিশনার বলেন, আকাশের আরও কয়েকটি নাম রয়েছে। তিমির এবং মনোজ নামেও সে পরিচিত। আকাশ সম্পর্কে পুলিশের কাছে আগে থেকেই তথ্য ছিল। সেই অনুযায়ী পুলিশও প্রস্তুত ছিল। পূর্ব মেদিনীপুরের পটাশপুর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার কাছ থেকে কিছু টাকা, কাগজপত্র এবং বেশ কিছু নথি উদ্ধার হয়েছে।  ইতিমধ্যেই তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়েছে। তদন্তে আরও কোনও তথ্য সামনে এলে তা জানানো হবে বলে জানান অজয় নন্দা।

তিনি আরও জানান, আকাশের বিরুদ্ধে পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি ঝাড়খণ্ডেও একাধিক মামলা রয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে ঝাড়খণ্ড পুলিশের একটি দল কলকাতায় আসছে।


পুলিশের দাবি, ২০১২ সালে কিষেণজির মৃত্যুর পর আকাশ ঝাড়খণ্ডের দিকে চলে গিয়েছিল। সেখানেও সে সক্রিয় ছিল। অজয় নন্দা জানান, ২০১২ সালের পর পশ্চিমবঙ্গে সিপিআইএমএল বা মাওবাদীদের পক্ষে তেমন কিছু করা সম্ভব হচ্ছিল না। পরিস্থিতির পরিবর্তনের কারণেই আকাশ ঝাড়খণ্ডের দিকে চলে যায়। সেখানে থেকেও সে সক্রিয় ছিল বলে পুলিশের দাবি।

এর কয়েক দিন আগেই পুষ্পা নামে এক ব্যক্তি আত্মসমর্পণ করেছিলেন। পুলিশ কমিশনারের দাবি, পুষ্পাও আকাশের সঙ্গে একই দলে ছিলেন। কিষেণজির অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবেও তিনি পরিচিত ছিলেন। এর আগে আকাশ অন্য কয়েকটি জায়গাতেও ছিল। বিভিন্ন সময়ে তারা একাধিক জায়গায় আশ্রয় নিয়েছিল বলেও জানিয়েছেন পুলিশ কমিশনার।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি আর্থিক অনটনের মধ্যে পড়েছিল আকাশ। অর্থ জোগাড়ের জন্য বাধ্য হয়ে ডেরা থেকে বেরিয়ে পূর্ব মেদিনীপুরের পটাশপুরে গিয়েছিল সে। সেখানে গোপনে গা ঢাকা দিয়েছিল। গোপন সূত্রে আকাশের অবস্থান সম্পর্কে খবর পেয়ে গোয়েন্দারা তার গতিবিধির উপর নজর রাখতে শুরু করেন। এরপর পটাশপুরেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।