বিধানসভা নির্বাচনে এবার ভোটের দফা কমিয়ে দুই করা হয়েছে। তবে দফা কমলেও নজরদারি আরও কড়া করতে নতুন পদক্ষেপ নিল কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন। ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পরদিন থেকেই রাজ্যে আসতে শুরু করছেন পর্যবেক্ষকরা। আজ থেকেই তাঁদের আগমন শুরু হবে বলে কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে।
সাধারণত প্রার্থীদের মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ তারিখের আগের দিন পর্যবেক্ষকেরা রাজ্যে আসেন। কিন্তু এবার সেই নিয়ম বদল করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে আগেভাগেই পর্যবেক্ষকদের মাঠে নামানো হচ্ছে।
ভোট প্রক্রিয়ায় সাধারণত তিন ধরনের পর্যবেক্ষক নিয়োগ করে নির্বাচন কমিশন। এর মধ্যে রয়েছেন সাধারণ পর্যবেক্ষক, পুলিশ পর্যবেক্ষক এবং আয়-ব্যয়ের নজরদারির জন্য বিশেষ পর্যবেক্ষক। সাধারণ পর্যবেক্ষকেরা পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়ার উপর সার্বিক নজর রাখেন। অন্যদিকে ভোটের সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন পুলিশ পর্যবেক্ষকেরা। আর রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীরা নির্বাচনী প্রচারে কত অর্থ ব্যয় করছেন, তা নজরে রাখেন আয়-ব্যয়ের পর্যবেক্ষকেরা।
এবার বাংলায় দুই দফায় ভোটগ্রহণ হবে। প্রথম দফার ভোট ২৩ এপ্রিল এবং দ্বিতীয় দফার ভোট ২৯ এপ্রিল। প্রথম দফার জন্য মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ৬ এপ্রিল এবং দ্বিতীয় দফার জন্য ৯ এপ্রিল পর্যন্ত মনোনয়ন জমা দেওয়া যাবে। সেই হিসাবে সাধারণ নিয়মে পর্যবেক্ষকদের ৫ এপ্রিলের কাছাকাছি সময়ে আসার কথা ছিল। কিন্তু তার অনেক আগেই সোমবার থেকে তাঁদের আগমন শুরু হচ্ছে।
শুধু আগে আসাই নয়, এবারের নির্বাচনে পর্যবেক্ষকের সংখ্যাও বাড়ানো হয়েছে। কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, তিন ধরনের পর্যবেক্ষক মিলিয়ে ৪০০-র বেশি আধিকারিক পশ্চিমবঙ্গে পাঠানো হবে। ২০২১ সালের নির্বাচনে একজন সাধারণ পর্যবেক্ষককে একাধিক বিধানসভা কেন্দ্রের দায়িত্ব সামলাতে হয়েছিল। কিন্তু এবার সাধারণ পর্যবেক্ষকের সংখ্যা বাড়িয়ে প্রত্যেকের উপর দায়িত্বের চাপ কমানোর পরিকল্পনা করেছে কমিশন।
কিছুদিন আগে রাজ্যে এসে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার জানিয়েছিলেন, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করাতে কমিশন দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। সেই লক্ষ্যেই আগেভাগে পর্যবেক্ষক পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে।