জীর্ণ ও বিপজ্জনক বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ নয়, জানাল কলকাতা হাইকোর্ট

File photo

বিপজ্জনক, জীর্ণ এবং ভেঙে ফেলার নির্দেশপ্রাপ্ত বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে সিইএসসিকে বাধ্য করা যায় না। মানুষের জীবন ও সম্পত্তির নিরাপত্তার প্রশ্নে এমন নির্দেশ দেওয়া সম্পূর্ণ অনভিপ্রেত। স্পষ্ট জানিয়ে দিল কলকাতা হাইকোর্ট।

মানিকতলা মেন রোডের ১২১/৪কে নম্বর বাড়িতে ছাপাখানা চালানোর জন্য বিদ্যুৎ সংযোগ চেয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল একটি বেসরকারি সংস্থা এবং আরও এক আবেদনকারী। তাঁদের দাবি, তাঁরা ওই বাড়ির ভাড়াটে এবং বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য সিইএসসির কাছে আবেদন করেছিলেন।

প্রথমে সিইএসসির তরফে জানানো হয়, বাড়ির প্রবেশপথ আবর্জনায় আটকে রয়েছে। পরে কলকাতা পুরসভা সেই আবর্জনা সরিয়ে দেওয়ার শংসাপত্র দেয়। আবেদনকারীদের দাবি, সেই তথ্য সিইএসসিকে জানানোর পরেও বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়নি। বরং বাড়ির মালিকপক্ষের আপত্তির কথা জানিয়ে তাঁদের পুলিশি সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।


এদিকে, ওই বাড়িকে কেন্দ্র করে ভাড়াটে ও মালিকপক্ষের মধ্যে আইনি লড়াইও চলছিল। মালিকপক্ষের দায়ের করা উচ্ছেদ মামলা ৯ জানুয়ারি ২০২৫-এ খারিজ হয়ে যায়। পরে আবেদনকারীরা দেওয়ানি মামলা করে এমন একটি নিষেধাজ্ঞা পান, যাতে আইন মেনে ছাড়া তাঁদের উচ্ছেদ করা যাবে না বলে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

তবে বিদ্যুৎ সংযোগের মামলায় সামনে আসে আরও গুরুতর বিষয়। জানা যায়, বাড়িটিই বিপজ্জনক এবং সেটি ভেঙে ফেলার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

আদালতে সিইএসসি জানায়, কলকাতা পুরসভা ইতিমধ্যেই ওই বাড়ি ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিয়েছে। একই বাড়ির আর এক ভাড়াটে সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে আগে হাইকোর্টে মামলা করেছিলেন। ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৫-এর রায়ে সমন্বয়কারী বেঞ্চ বাড়ি ভাঙা এবং খালি করার নির্দেশ বহাল রাখে।

ওই রায়ে আদালত নথিভুক্ত করেছিল, বাড়ির একটি অংশ ইতিমধ্যেই ভেঙে পড়েছে। বাকি কাঠামোটিও যে কোনও সময় ধসে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এমন বিপজ্জনক বাড়ি শুধুমাত্র ভাড়াটিয়ার অধিকার রক্ষার জন্য দাঁড় করিয়ে রাখা যায় না বলেও আদালত পর্যবেক্ষণ করেছিল।

এই পরিস্থিতিতেই বিচারপতি ওম নারায়ণ রাইয়ের বেঞ্চে আসে বিদ্যুৎ সংযোগের আবেদন।

আবেদনকারীদের পেশ করা কয়েকটি হাতে লেখা নোট নিয়েও সংশয় প্রকাশ করে আদালত। বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, ওই নোটগুলি আদালতের আস্থা অর্জন করতে পারেনি। তবে সেগুলিকে সত্যি বলে ধরে নিলেও মামলার ফল বদলাবে না বলে জানায় আদালত।

আদালতের বক্তব্য, ভয়াবহ বাস্তবতার মধ্যে এমন ‘কনডেমড’ বাড়িতে বিদ্যুৎ সরবরাহের নির্দেশ দেওয়া যায় না।

বিদ্যুৎ আইনের ৪৩ নম্বর ধারায় মালিক বা দখলদারের আবেদনের ভিত্তিতে বিদ্যুৎ সরবরাহের বিধান রয়েছে। তবে আদালত মনে করিয়ে দিয়েছে, আইনের অন্যান্য বিধান এবং মানুষের জীবন ও সম্পত্তির নিরাপত্তার বিষয়টিও একই সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।

বিচারপতি রাইয়ের পর্যবেক্ষণ, যে বাড়িতে গুরুতর নিরাপত্তাঝুঁকি রয়েছে এবং জীর্ণ অবস্থার কারণে যেটিকে সম্পূর্ণ ভেঙে ফেলার জন্য ইতিমধ্যেই চিহ্নিত করা হয়েছে, সেখানে সিইএসসিকে বিদ্যুৎ সরবরাহে বাধ্য করার কোনও কারণ নেই। সেই কারণে আবেদনটি খারিজ করে দেয় আদালত।