পুজোর অনুদানে নয়া নিয়ম, শুভেন্দুর ডাকে সাড়া দিয়ে সরকারি সাহায্য ছাড়ছে একের পর এক বড় ক্লাব

প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র

রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর প্রথম দুর্গাপুজো। আর সেই পুজোতেই অনুদান ঘিরে বড়সড় বদলের পথে বিজেপি সরকার। আগের মতো ক্লাবপিছু ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকা নয়, এবার সরকারি অনুদানের অঙ্ক কমে দাঁড়িয়েছে ১ লক্ষ টাকায়। তবে শুধু অনুদানের অঙ্ক কমানোই নয়, আর্থিক স্বচ্ছতা ও সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহারের বার্তা দিয়ে রাজ্যের বড় বাজেটের এবং স্বাবলম্বী পুজো কমিটিগুলিকে সরকারি অনুদান না নেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রীর সেই আহ্বানে ইতিমধ্যেই সাড়া দিতে শুরু করেছে কলকাতার একাধিক নামী ও প্রভাবশালী পুজো কমিটি।

সোমবার মুখ্যমন্ত্রীর বার্তার পর এখনও পর্যন্ত যে হেভিওয়েট পুজো কমিটিগুলি সরকারি অনুদান নেবে না বলে জানিয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে সন্তোষ মিত্র স্কোয়ার, টালা প্রত্যয়, সিংহী পার্ক সর্বজনীন দুর্গোৎসব পুজো কমিটি, নাকতলা উদয়ন সংঘ, চোরবাগান সর্বজনীন এবং সন্তোষপুর লেক পল্লী। ফলে শহরের বড় পুজোগুলির একাংশের সিদ্ধান্তে অনুদান-নীতি নিয়ে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে।

সন্তোষ মিত্র স্কোয়ার পুজোর অন্যতম প্রধান উদ্যোক্তা তথা বিধায়ক সজল ঘোষ জানিয়েছেন, আগের সরকারের আমলেও তাঁরা কখনও সরকারি অনুদানের জন্য আবেদন করেননি। এবারও মুখ্যমন্ত্রীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে একই সিদ্ধান্ত বহাল রাখছেন তাঁরা। সরকারি অনুদানের জন্য এবারও কোনও আবেদন করা হবে না বলেই স্পষ্ট করেছেন তিনি।


তবে সব পুজো কমিটি যে সরাসরি অনুদান প্রত্যাখ্যান করছে, তা নয়। কেউ কেউ বেছে নিয়েছে অন্য পথ। রাজডাঙা নব উদয় সংঘের চেয়ারম্যান কেয়া ঘোষ জানিয়েছেন, তাঁরা সরকারের দেওয়া ১ লক্ষ টাকা অনুদান গ্রহণ করবেন। তবে সেই টাকা পুজোর কাজে খরচ না করে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে দান করে দেওয়া হবে। অর্থাৎ সরকারি সাহায্য নিজেদের উৎসবে ব্যবহার না করে জনকল্যাণের কাজে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ওই পুজো কমিটি।

উল্লেখ্য, তৃণমূল সরকারের আমলে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে ক্লাবগুলিকে দুর্গাপুজোর অনুদান দেওয়ার প্রথা শুরু হয়। প্রথমে ক্লাবপিছু ২৫ হাজার টাকা দেওয়া হলেও কয়েক দফায় তা বেড়ে ২০২৫ সালে ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকায় পৌঁছয়। রাজনৈতিক পালাবদলের পর সেই অনুদান কমিয়ে এবার ১ লক্ষ টাকা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিজেপি সরকার।

সোমবারের বৈঠকে আগের সরকারের আমলে অনুদান নিয়ে ‘মাছের বাজারের’ মতো সভা করে দর হাঁকার সংস্কৃতির তীব্র সমালোচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর স্পষ্ট বার্তা—যাঁদের সত্যিই আর্থিক প্রয়োজন রয়েছে এবং যাঁরা আবেদন করবেন, তাঁদের ১ লক্ষ টাকা করে দেওয়া হবে। কিন্তু বিপুল বাজেটের, আর্থিকভাবে স্বচ্ছল ও স্বাবলম্বী পুজো কমিটিগুলির সরকারি সাহায্য নেওয়ার প্রয়োজন নেই। মুখ্যমন্ত্রীর সেই বার্তাই এবার কার্যত প্রতিফলিত হচ্ছে কলকাতার একাধিক বড় পুজোর সিদ্ধান্তে।