নিউ মার্কেটে মির্জা গালিব স্ট্রিটের হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশের জালে এক। ধৃতের নাম আবু জাফর। তিনি হোটেল শিখা ইন-এর লিজ হোল্ডার। এন্টালি থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ। তাছাড়াও ওই হোটেলের ম্যানেজার ও এক কর্মীকেও আটক করা হয়েছে। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। পলাতক মালিকের খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ।
ফরেন্সিক পরীক্ষায় আগুন লাগার প্রাথমিক কারণও সামনে এসেছে। জানা গিয়েছে, হোটেলের তিনতলার রিসেপশনে এসির তার বা পোর্ট ছিল। এসি লাগানো জায়গার একটি অংশ ফুলে গিয়েছিল। সেখান থেকেই আগুন লাগে বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে। এরপর অন্য তারগুলিও ফাটতে শুরু করে। এসি থেকে আগুন ছড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বেরিয়ে আসে বিষাক্ত ধোঁয়া। দ্রুত সেই ধোঁয়া গোটা ভবনে ছড়িয়ে পড়ে। ঘরগুলি কালো ধোঁয়ায় ভরে যায়। দমবন্ধ হয়ে মৃত্যু হয় ৯ জন আবাসিকের।
এই তলাতেই ছিলেন বাংলাদেশের এক সাংবাদিক। তাঁর সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী, শিশু সন্তান ও বাবা। আগুন লাগার পর তাঁরা প্রাণ বাঁচানোর চেষ্টা করেন। প্যাসেজ থেকে দু’জনের দেহ উদ্ধার হয়। ঝাড়খণ্ডের বাসিন্দা সন্দীপ পাসোয়ান ছিলেন রিসেপশনের পাশের ঘরে। ধোঁয়ায় শ্বাস আটকে তাঁরও মৃত্যু হয়। তাঁর বুকেও আঘাতের চিহ্ন মিলেছে।
বুধবার দেহ শনাক্তকরণ সম্পূর্ণ না হওয়ায় ময়নাতদন্ত হয়নি। বৃহস্পতিবার দেহগুলির ময়নাতদন্ত হওয়ার কথা। ১৯ তারিখ গভীর রাতে আগুন লাগে ওই হোটেলে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। ভিতরে আটকে পড়েন বহু আবাসিক। তাঁদের মধ্যে বেশ কয়েকজন বাংলাদেশি ছিলেন। চিকিৎসার জন্য তাঁরা কলকাতায় এসেছিলেন। ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ৬ জন।
আবাসিক ও স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, হোটেলে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল না। সেই কারণেই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে।
অন্যদিকে, মির্জা গালিব স্ট্রিটের ৯টি হোটেল ও ৪টি রেস্তরাঁকে শো-কজ করেছে দমকল দপ্তর। অগ্নিনিরাপত্তা বিধি না মানার অভিযোগ উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে। গোটা ঘটনায় রিপোর্ট চেয়েছেন দমকলের ডিজি অনুজ শর্মা।