ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া ঘিরে বিতর্ক ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। সাধারণ নাগরিক থেকে সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের শুনানির নোটিস পাঠানো নিয়ে ইতিমধ্যেই সমালোচনার মুখে নির্বাচন কমিশন। সেই আবহেই এবার এসআইআর শুনানির নোটিস পেলেন বীর স্বাধীনতা সংগ্রামী নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর প্রপৌত্র চন্দ্র বসু। শুনানির নোটিস পাওয়ার পরেই বিস্ময় ও ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন তিনি। তাঁর প্রশ্ন, ‘নেতাজির প্রপৌত্র হয়েও আমাকে নাগরিকত্বের প্রমাণ দিতে হবে? দেশ কোন পথে এগোচ্ছে?’
নেতাজির পরিবারের সদস্যকে এভাবে শুনানিতে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া নিয়ে মহলে শোরগোল পড়েছে। প্রশ্ন উঠছে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও। নাগরিকত্ব যাচাইয়ের মতো সংবেদনশীল বিষয়ে দেশের অন্যতম শ্রদ্ধেয় স্বাধীনতা সংগ্রামীর পরিবারের সদস্যকে নোটিস পাঠানোকে অযৌক্তিক বলেই দাবি করছেন সমালোচকরা।
তবে বিতর্কের মুখে পড়ে রাজ্য নির্বাচন কমিশন এই নোটিস পাঠানোর কারণ ব্যাখ্যা করেছে। কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, চন্দ্র বসুর জমা দেওয়া এনিউমারেশন ফর্মে তথ্য অসম্পূর্ণ ছিল। বিশেষ করে ‘লিঙ্কেজ’ সংক্রান্ত কলামটি পূরণ করা হয়নি। ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম থাকা কোনও আত্মীয় বা পূর্বসূরির নামের সঙ্গে সম্পর্ক-সংযুক্তির তথ্য ওই অংশে দেওয়ার কথা ছিল। সেই তথ্য না থাকায় তাঁকে শুনানির জন্য ডাকা হয়েছে বলে কমিশনের ব্যাখ্যা।
এই ঘটনা নতুন নয় বলেই দাবি রাজনৈতিক মহলের একাংশের। এসআইআর প্রক্রিয়ায় এনিউমারেশন ফর্মে সামান্য ভুল বা তথ্যের ঘাটতির কারণে বহু ভোটারকে সরাসরি শুনানি-কেন্দ্রে হাজিরার নোটিস ধরানো হচ্ছে। এই তালিকায় আগেই উঠে এসেছে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন, ভারতীয় ক্রিকেটার মহম্মদ শামির নাম। পাশাপাশি শাসক দলের সাংসদ ও বিধায়কদেরও শুনানিতে ডাকা হয়েছে। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হল নেতাজির প্রপৌত্রের নাম।