নন্দীগ্রামে উপনির্বাচনের দিন যত এগিয়ে আসছে, ততই যেন আরও ঘন হচ্ছে নন্দীগ্রামের রাজনৈতিক আকাশ। প্রার্থীদের ঘিরে একের পর এক আইনি প্রশ্ন, আর তার মাঝেই শুক্রবার বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথের হলফনামায় তথ্যগত অসঙ্গতি সংক্রান্ত মামলার শুনানি শেষ করে রায়দান স্থগিত রাখল কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি কৃষ্ণ রাওয়ের একক বেঞ্চ।
মামলায় কংগ্রেসের আইনজীবী ঋজু ঘোষালের দাবি, বিজেপি প্রার্থীর হলফনামায় বয়স ও শিক্ষাগত যোগ্যতা সংক্রান্ত তথ্য নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তাঁর বক্তব্য, হলফনামায় প্রার্থীর বয়স ৬১ বছর উল্লেখ করা হলেও মাধ্যমিকের সাল হিসেবে ১৯৬৩ সালের তথ্য দেওয়া হয়েছে। রিটার্নিং অফিসার মনোনয়নপত্র যাচাইয়ের সময় বিষয়টি যথাযথভাবে পরীক্ষা করেননি বলেও আদালতে দাবি করেন তিনি।
শুনানিতে বিচারপতি কৃষ্ণ রাওয়ের পর্যবেক্ষণেও উঠে আসে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন,রেকর্ড তলব করলেও তার সরাসরি নির্বাচনী প্রভাব কতটা পড়বে? আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, রিটার্নিং অফিসারের কাজের পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও প্রার্থী নির্বাচনে জয়ী হলে তার ফলাফলের উপর তার প্রভাব কী হবে, সেটিও বিবেচ্য।
অন্যদিকে, বিজেপি প্রার্থীর আইনজীবী জিষ্ণু চৌধুরীর বক্তব্য, হলফনামায় তারিখ বা তথ্যের কোনও ভুল থাকলেও তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে নির্বাচনে লড়ার অধিকার কেড়ে নেয় না। তাঁর যুক্তি, শিক্ষাগত যোগ্যতা কোনও প্রার্থীর বিধায়ক হওয়ার মৌলিক যোগ্যতার শর্ত নয়; এমনকি নিরক্ষর ব্যক্তিও নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন।
নির্বাচন কমিশনের পক্ষে দামা সেশাদ্রি নাইডু আদালতে জানান, ১৬ সেপ্টেম্বর মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন, ১৭ সেপ্টেম্বর স্ক্রুটিনি এবং ১৯ সেপ্টেম্বর মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন ছিল। তাঁর বক্তব্য, নির্ধারিত নির্বাচনী প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর এই মামলার গ্রহণযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
শুনানিতে আদালত রিটার্নিং অফিসার সমস্ত আপত্তি যথাযথভাবে যাচাই করেছিলেন কি না, সেই প্রশ্নও তোলে।
তবে নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনের উত্তাপ শুধু এই মামলাতেই সীমাবদ্ধ নয়। কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে ঘিরে পুরনো একটি মামলায় গ্রেফতারি ও জেল হেফাজতের প্রসঙ্গও ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে। ফলে একদিকে বিজেপি প্রার্থীর হলফনামা নিয়ে আদালতের প্রশ্ন, অন্যদিকে কংগ্রেস প্রার্থীকে ঘিরে পুরনো মামলার আইনি জট,সব মিলিয়ে ভোটের আগে দুই শিবিরের প্রার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়েই তৈরি হয়েছে নতুন অনিশ্চয়তা।
শেষ পর্যন্ত আদালতের সিদ্ধান্ত কী হবে, প্রার্থীদের মনোনয়ন নিয়ে তার কোনও বাস্তব প্রভাব পড়বে কি না, আর এই আইনি টানাপোড়েন নন্দীগ্রামের ভোটের সমীকরণে কতটা ছাপ ফেলবে,এখন সেই প্রশ্নের উত্তরই খুঁজছে রাজনৈতিক মহল। তবে নন্দীগ্রামের মানুষ তাকিয়ে তাঁদের ভোটের ভবিষ্যত ও আদালতের রায়ের দিকে।