চোরবাগান-কাণ্ডের পুনরাবৃত্তি রুখতে এবার আগেভাগেই সতর্ক পুলিশ। দুর্গাপুজোর পর আসন্ন কালীপুজোয় নৈহাটির বড়মার মন্দিরে দর্শনার্থীদের ভিড় সামলাতে এখন থেকেই প্রস্তুতি শুরু করল ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেট। শনিবার মন্দির চত্বর পরিদর্শন করেন ব্যারাকপুরের পুলিশ কমিশনার অমিতকুমার সিং। নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখার পাশাপাশি ভিড় নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনা নিয়ে পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে আলোচনা করেন তিনি।
প্রতি বছর কালীপুজোকে কেন্দ্র করে নৈহাটির বড়মার মন্দিরে ভক্তদের ঢল নামে। দূরদূরান্ত থেকে আসা অসংখ্য দর্শনার্থীর ভিড় সামলানো পুলিশের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। তার উপর দুর্গাপুজোর সপ্তমীতে চোরবাগানে ঘটে যাওয়া বিপর্যয়ের পর জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বাড়তি সতর্ক প্রশাসন। তাই শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতির বদলে আগে থেকেই পরিস্থিতি পর্যালোচনায় জোর দিচ্ছে পুলিশ।
শনিবার মন্দির পরিদর্শনে গিয়ে গঙ্গার ঘাট থেকে অরবিন্দ রোডের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখেন পুলিশ কমিশনার। সঙ্গে ছিলেন বড়মার মন্দির ফাঁড়ি ও নৈহাটি থানার আধিকারিকেরা। দর্শনার্থীদের যাতায়াতের পথ, নিরাপত্তার ব্যবস্থা এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণের সম্ভাব্য পদ্ধতি খতিয়ে দেখেন তাঁরা। কোথায় কত পুলিশকর্মী মোতায়েন করা হবে, কীভাবে ভিড়ের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ করা হবে এবং গোটা পরিস্থিতির উপর কীভাবে নজরদারি চালানো হবে, তা নিয়েও আলোচনা হয়।
পুলিশ কমিশনার অমিতকুমার সিং জানিয়েছেন, কালীপুজোয় নিরাপত্তা ও জনসমাগম নিয়ন্ত্রণে যাতে কোনও খামতি না থাকে, তা নিশ্চিত করতেই এই আগাম পরিদর্শন। সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
কালীপুজোয় বড়মার মন্দিরে বিপুল জনসমাগমের কথা মাথায় রেখে নিরাপত্তা ও ভিড় নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে কোনও ঝুঁকি নিতে চাইছে না পুলিশ। এখন দেখার, আগাম পরিকল্পনা ও নজরদারির মাধ্যমে উৎসবের দিনগুলিতে নির্বিঘ্নে দর্শনার্থীদের সামলাতে কতটা সফল হয় প্রশাসন।