জনগণনা এড়ালে জরিমানা এমনকি জেলও হতে পারে, স্কুলগুলিকে কড়া বার্তা পুরসভার

ফাইল চিত্র

আগস্টেই রাজ্যজুড়ে জনগণনার কাজ শুরু হবে। এই প্রক্রিয়ায় শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং শিক্ষাকর্মীদের বাধ্যতামূলকভাবে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে চাইছে কলকাতা পুরসভা। এনিয়েই কলকাতার জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শক (ডিআই)-এর কাছে সার্কুলার জারির আবেদন জানিয়েছে কলকাতা পুরসভা। কিছু স্কুল থেকে জনগণনার কাজে শিক্ষক ও কর্মীদের ছাড়তে অনীহার কথা জানানো হয়েছে বলেই এই উদ্যোগ বলে সূত্রের খবর।


গত ৮ জুলাই বিশেষ পুর কমিশনার তথা অতিরিক্ত মুখ্য জনগণনা আধিকারিকের পাঠানো চিঠিতে জানানো হয়েছে, কলকাতা পুরসভা এলাকার জন্য জনগণনার কাজে গণনাকারী (এনিউমারেটর) ও তদারককারী (সুপারভাইজার) হিসেবে শিক্ষক এবং সহকারী শিক্ষকদের চাহিদাপত্র ইতিমধ্যেই পাঠানো হয়েছে।

তবে পুরসভার দাবি, একাধিক স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষিকা জানিয়েছেন, কর্মীসংকটের কারণে তাঁরা শিক্ষক-শিক্ষিকাদের জনগণনার কাজে পাঠাতে পারছেন না। পাশাপাশি বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে অনেক শিক্ষক জনগণনার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়ে আবেদনও করেছেন।
চিঠিতে জনগণনা আইন, ১৯৪৮-এর উল্লেখ করে পুরসভা স্পষ্ট জানিয়েছে, আইন অনুযায়ী গণনাকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগ করা হয়।


জনগণনার দায়িত্ব পালনে অস্বীকার করলে সর্বোচ্চ এক হাজার টাকা জরিমানা হতে পারে। দোষী সাব্যস্ত হলে তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধানও রয়েছে। একই সঙ্গে স্কুলগুলিকে আশ্বস্ত করে পুরসভা জানিয়েছে, কাজের সময়সূচি নমনীয় রাখা হবে। যাতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শিক্ষক-শিক্ষিকারা স্কুলের কাজের পাশাপাশি জনগণনার দায়িত্বও পালন করতে পারেন।

এই পরিস্থিতিতে সমস্ত স্কুলে দ্রুত নির্দেশিকা পৌঁছে দেওয়ার জন্য জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শকের কাছে আবেদন করেছে পুরসভা। উদ্দেশ্য একটাই, নির্ধারিত সময়ে নিযুক্ত শিক্ষক, শিক্ষিকা এবং দপ্তর কর্মীরা যাতে জনগণনার কাজে যোগ দেন।

অন্যদিকে, এই সিদ্ধান্ত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে শিক্ষকমহল। দীর্ঘদিন পর্যাপ্ত নিয়োগ না হওয়ায় সরকারি স্কুলগুলি আগে থেকেই তীব্র কর্মীসংকটে ভুগছে। এই অবস্থায় বিপুল সংখ্যক শিক্ষক এবং অশিক্ষক কর্মীকে জনগণনার কাজে নিয়োজিত করা হলে পঠনপাঠন, পরীক্ষা, মূল্যায়ন এবং নির্ধারিত সময়ে পাঠ্যক্রম শেষ করার ক্ষেত্রে বড় ধরনের সমস্যা তৈরি হতে পারে।