যাদবপুরে ‘অরাজকতা’ প্রসঙ্গে মোদীকে পাল্টা তোপ মমতার

প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র

প্রথম দফার ভোট মিটতেই দ্বিতীয় দফার প্রচারে তাপমাত্রা দ্রুত বাড়ছে। শুক্রবার উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনায় একাধিক জনসভা থেকে আক্রমণাত্মক সুরে প্রচার চালালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। পানিহাটির পর বারুইপুরের টংতলা মাঠের সভা থেকে তিনি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়-কে ঘিরে রাজ্য সরকারকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন। তাঁর দাবি, একসময় আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এখন ‘অরাজকতা’ চলছে।

সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ নষ্ট হয়ে গিয়েছে। তাঁর কথায়, পড়াশোনার বদলে সেখানে আন্দোলন, হুমকি এবং দেশবিরোধী স্লোগানের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, যে সরকার রাজ্যের অন্যতম প্রধান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে সুরক্ষা দিতে পারে না, তারা কীভাবে তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করবে? পাশাপাশি তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে ‘সিন্ডিকেটরাজ’-এর অভিযোগ তুলে তিনি দাবি করেন, গত ১৫ বছরে বাংলার ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্যের তীব্র জবাব দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ছাত্রদের প্রতিবাদ মানেই অরাজকতা নয়, বরং সেটাই গণতন্ত্রের লক্ষণ। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্য ও মেধার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আপনার সরকারের নিজস্ব মূল্যায়ন তালিকায় বছরের পর বছর শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে এই প্রতিষ্ঠান। সেই উৎকর্ষ কেন্দ্রকে অপমান করা মানে গোটা বাংলাকে অপমান করা।’


মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা নিজেদের মেধার জোরে জায়গা করে নেয় এবং তারা প্রশ্ন করার ক্ষমতা অর্জন করে। ‘এটাকে নৈরাজ্য বলা যায় না, এটাই প্রকৃত শিক্ষা’— মন্তব্য তাঁর। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সরকারের একাধিক পদক্ষেপের সমালোচনা করে তিনি বুলডোজার রাজনীতি, কৃষক আন্দোলন দমন, ধর্মীয় বিভাজন এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের অভিযোগও তোলেন।

দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে যাদবপুর ইস্যুকে কেন্দ্র করে নরেন্দ্র মোদীমমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর এই সরাসরি সংঘাত রাজ্যের রাজনৈতিক আবহকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।