নারী ও শিশুদের অগ্রগতি নিয়ে কেন্দ্র ও একাধিক রাজ্যের সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। বলা ভালো এখনও দিচ্ছে। নাবালিকার বিয়ের খবর পেলেই দ্রুতক পদক্ষেপ নিচ্ছে রাজ্য পুলিশ। কিন্তু তার মধ্যেও কিছু ঘটনা প্রশ্ন তুলে দেয়। সম্প্রতি সামনে এসেছে এমনই এক ঘটনা।
১৬ বছর বয়সে বিয়ে করে ১৭ বছর পেরোতেই মা হল এক নাবালিকা! আর এই অভিযোগে স্বামীর বিরুদ্ধেই পকসো আইনে মামলা দায়ের হয়েছে। গত কয়েক দিনে শহরে একাধিক বাল্যবিবাহের অভিযোগ সামনে এসেছে। আর পুলিশের অভিযোগের আঙুল উঠেছে নাবালিকা স্ত্রীর স্বামীর দিকেই। নাবালিকাকে বিয়ে করা এবং নাবালিকা স্ত্রীর উপর ‘যৌন নির্যাতন’-এর অভিযোগে মামলা দায়ের করা হচ্ছে।
দায়িত্ব গ্রহণের পরই বাল্যবিবাহ নিয়ন্ত্রণে আনার বিষয়ে শহরের প্রতিটি থানার ওসি ও পুলিশকর্তাদের সতর্ক করেছিলেন পুলিশ কমিশনার। কলকাতা থেকে বাল্যবিবাহ সম্পূর্ণ বন্ধ করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল। তাই এই ধরনের অভিযোগ সামনে আসতেই বিষয়টিকে গুরুত্ব সহকারে দেখছে পুলিশ।
লালবাজারের এক কর্তা জানিয়েছেন, নাবালিকাদের বিয়ে রোধে বিভিন্ন এলাকায় সচেতনতামূলক প্রচার শুরু করা হচ্ছে। এর আগেও শহরের বহু স্কুলে এই বিষয়ে প্রচার চালানো হয়েছিল। ফের স্কুলের ছাত্রী ও তাঁদের অভিভাবকদের সচেতন করতে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি এলাকার যুবক ও তরুণদেরও সতর্ক করা হচ্ছে, যাতে তাঁরা কোনও নাবালিকাকে বিয়ে না করেন এবং নাবালিকার বিয়ে রোধে এগিয়ে আসেন। এই কাজে স্থানীয় ক্লাবগুলির সহায়তাও নেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছে লালবাজার।
দক্ষিণ কলকাতার বাঁশদ্রোণীর এক কিশোরীকে নিয়ে তাঁর স্বামী পুরসভার এক চিকিৎসকের কাছে যান এবং জানান, তাঁর স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা। চিকিৎসার সময় চিকিৎসক মেয়েটির পরিচয়পত্র পরীক্ষা করে জানতে পারেন, সে নাবালিকা। পরে পুলিশকে ওই কিশোরী জানায়, গত মার্চ মাসে বিহারে তাদের বিয়ে হয়েছিল। স্বামীর সঙ্গে পরের মাসেই সে কলকাতায় চলে আসে এবং বাঁশদ্রোণীর একটি এলাকায় বসবাস শুরু করে। সম্প্রতি সে জানতে পারে যে, সে অন্তঃসত্ত্বা। এরপরই বাল্যবিবাহের ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে।
এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই পুলিশের সামনে আসে উত্তর কলকাতার সিঁথি এলাকার আরও দু’টি ঘটনা। কিছু দিন আগে উত্তর শহরতলির বরানগরের একটি হাসপাতালে পরপর দুই দম্পতি চিকিৎসার জন্য আসেন। তাঁদের সবারই বাড়ি সিঁথি এলাকায়। দু’টি ক্ষেত্রেই স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন।
কিন্তু পরিচয়পত্র পরীক্ষা করার পর চিকিৎসক জানতে পারেন, দুই তরুণীই নাবালিকা। ১৭ বছর বয়স পার হতেই তাঁরা অন্তঃসত্ত্বা হয়েছেন। এরপর বরানগরের ওই হাসপাতালের চিকিৎসক সিঁথি থানায় তাঁদের স্বামীদের বিরুদ্ধে বাল্যবিবাহ এবং পকসো আইনে অভিযোগ দায়ের করেন।
অন্যদিকে, সম্প্রতি একবালপুরের এক নাবালিকার অভিযোগ, তাঁর পরিবারের এক সদস্যই তাঁকে যৌন হেনস্তা করেছে। পুলিশের এক কর্তা জানান, অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা স্থানীয় সূত্রে কোনও যুবক বা তরুণের সঙ্গে পরিচয়ের পর নাবালিকারা ইচ্ছাকৃতভাবে বিয়ে করে ফেলে। আবার অনেক ক্ষেত্রে পড়াশোনা বন্ধ করে পরিবারের চাপে নাবালিকার বিয়ে দেওয়া হয়।
সম্প্রতি যে ঘটনাগুলি পুলিশের সামনে এসেছে, সেগুলি বিশ্লেষণ করে দেখা হচ্ছে কীভাবে ওই নাবালিকাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। পুলিশের মতে, কোনও এলাকায় বাল্যবিবাহ হলেও স্থানীয় বাসিন্দারা অনেক সময় পুলিশকে খবর দিতে চান না। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই নাবালিকারা অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে এলে বা সন্তানের জন্ম দিতে গেলে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। তাই বাল্যবিবাহ রোধে নতুন কৌশল গ্রহণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।