মাওবাদী শীর্ষনেতা অসীম মণ্ডল ওরফে ‘আকাশ’-কে ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিল আদালত। দীর্ঘদিন ধরে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের নজরে থাকা সিপিআই (মাওবাদী)-র কেন্দ্রীয় কমিটির এই সদস্যকে বৃহস্পতিবার ভোরে গ্রেফতার করে কলকাতা পুলিশের এসটিএফ।
আদালতে এসটিএফের আইনজীবী জানান, অসীম মণ্ডলের বিরুদ্ধে পশ্চিমবঙ্গ, ঝাড়খণ্ড এবং ওড়িশায় মোট ৩৩টি মামলা রয়েছে। তাঁকে গ্রেফতারের জন্য ঝাড়খণ্ড সরকার এক কোটি টাকা এবং ওড়িশা সরকার ২.২ কোটি টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছিল। এসটিএফ সূত্রের খবর, সম্প্রতি গ্রেফতার হওয়া মাওবাদী নেত্রী ‘বেলাদি’র কাছ থেকেই আকাশ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হাতে আসে। সেই সূত্র ধরেই তদন্তকারীরা তাঁর গতিবিধি সম্পর্কে একাধিক তথ্য পান।
আদালতে রাজ্য পুলিশের তরফে দাবি করা হয়, আকাশ নিষিদ্ধ মাওবাদী সংগঠনের সক্রিয় সদস্য। রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতার বিরুদ্ধে গিয়ে নাশকতামূলক এবং বেআইনি কার্যকলাপ চালানোর পাশাপাশি সংগঠনের চক্র গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। পুলিশের দাবি, বারবার নাম ও পরিচয় বদলে দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে আড়াল করে রেখেছিলেন তিনি। তবে মাওবাদী সংগঠনের অন্দরে ‘আকাশ’ নামেই পরিচিত ছিলেন অসীম।
এ দিন অবশ্য আকাশের হয়ে জামিনের আবেদন করা হয়নি। তাঁর আইনজীবী ইয়াসিন রহমান আদালতে দাবি করেন, কয়েক দশক ধরে তাঁর মক্কেলের বিরুদ্ধে নাশকতার অভিযোগ তোলা হচ্ছে। একইসঙ্গে তাঁর বক্তব্য, ২০১১ সালের আগে মাওবাদী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এমন অনেকেই পরবর্তী সময়ে সমাজের ‘নায়ক’ এবং মূলস্রোতের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হয়ে উঠেছেন।
আশির দশকে পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোণার ফুলচক গ্রাম থেকে ছাত্র আন্দোলনের হাত ধরে অতিবাম রাজনীতিতে পা রাখেন অসীম মণ্ডল। পরবর্তী সময়ে সিপিআই (মাওবাদী)-র রাজ্য সম্পাদকের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও পান তিনি। ২০১১ সালে মাওবাদী নেতা কিষেণজির মৃত্যুর পর পশ্চিমবঙ্গে সংগঠনকে টিকিয়ে রাখার ক্ষেত্রে আকাশের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে গোয়েন্দা সূত্রে দাবি।
দীর্ঘ ১৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে পশ্চিমবঙ্গ, ঝাড়খণ্ড ও ওড়িশার সীমান্তবর্তী জঙ্গল এলাকায় আত্মগোপন করে পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে আসছিলেন তিনি। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে মাওবাদীদের বিরুদ্ধে তল্লাশি ও ধরপাকড় বাড়ায় পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে। একের পর এক সহযোদ্ধা গ্রেফতার হওয়ায় ক্রমেই কোণঠাসা হয়ে পড়ছিলেন আকাশ। শেষ পর্যন্ত কলকাতা পুলিশের এসটিএফের জালে ধরা পড়ল রাজ্যের অন্যতম ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ মাওবাদী নেতা।