বনাঞ্চল ও চিড়িয়াখানার নজরদারিতে স্বচ্ছতার বার্তা, নদী-বন্যপ্রাণী রক্ষাতেও কড়া পদক্ষেপ: বনমন্ত্রী মনোজ কুমার ওরাও

pic-sns

দৈনিক স্টেটসম্যানের মুখোমুখি সাক্ষাৎকারে বনমন্ত্রী মনোজ কুমার ওরাও বলেন, রাজ্যের সমস্ত চিড়িয়াখানাকে অরণ্য ভবন থেকে নজরদারির আওতায় আনা হবে। কোন পশু কতটা খাবার পাচ্ছে, আদৌ সময়মতো খাবার দেওয়া হচ্ছে কি না, তাদের স্বাস্থ্যের যথাযথ পরিচর্যা হচ্ছে কি না—সব বিষয়েই নজরদারি থাকবে। তাঁর কথায়, ‘‘চিড়িয়াখানার পশুদের কীভাবে দেখভাল করা হচ্ছে, তা জানার অধিকার রাজ্যবাসীর রয়েছে।’’

মন্ত্রী জানান, প্রতিদিন কোন পশুর জন্য কতটা খাবার বরাদ্দ করা হচ্ছে, তার বিস্তারিত খতিয়ান তৈরি করা হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, আগের সরকারের আমলে চিড়িয়াখানার পশুদের না খাইয়ে রাখা হতো এবং যথাযথভাবে দেখভাল করা হত না। তাঁর দাবি, ‘‘এখন আর তা হতে দেওয়া হবে না। স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ হবে।’’

গত ১৫ বছরে চিড়িয়াখানায় কাটমানি নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে বলে জানান তিনি। তবে বিজেপি সরকারের আমলে যাতে এমন অভিযোগ ওঠার কোনও সুযোগই না থাকে, তা নিশ্চিত করা হবে বলে তাঁর দাবি।


উত্তরবঙ্গের প্রশাসনিক গুরুত্ব প্রসঙ্গে বনমন্ত্রী মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, উত্তরকন্যায় উত্তরবঙ্গের সমস্ত মন্ত্রীরা সপ্তাহে এক দিন করে উপস্থিত থাকছেন। এর ফলে সাধারণ মানুষের সুবিধা হচ্ছে। তাঁর কথায়, ‘‘সবার পক্ষে কলকাতা পর্যন্ত আসা সম্ভব নয়। নির্ধারিত দিনে তাঁরা নিজেদের সমস্যা সরাসরি জানাতে পারবেন।’’

তাঁর মতে, উত্তরবঙ্গ আর অবহেলিত বা বঞ্চিত নয়। উত্তরকন্যায় মন্ত্রীদের উপস্থিতির ফলে উত্তরবঙ্গের মানুষের কাছে প্রশাসন আরও সহজে পৌঁছে যাচ্ছে।

বন দফতরের কাজের ক্ষেত্রে কোনও নির্দিষ্ট অঞ্চলকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে না বলেও স্পষ্ট করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘‘সুন্দরবন থেকে ডুয়ার্স—সর্বত্র সমান গুরুত্ব দিতে হবে।’’ তাঁর কথায়, ‘‘চোখের সামনে দেখেছি কীভাবে বন ধ্বংস হয়েছে।’’ বনাঞ্চল রক্ষা করা এবং বড় প্রকল্পের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যে পরিবেশ ও বন সংরক্ষণ নিয়ে সচেতনতা তৈরি করাই তাঁর অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

নদী থেকে অবৈধভাবে বালি তোলার বিরুদ্ধেও কড়া অবস্থানের কথা জানান তিনি। মন্ত্রীর কথায়, ‘‘নদী থেকে আর বালি চুরি হবে না। নদী থেকে কোনও ডাম্পার নামবে না। নদীকে আগে বাঁচাব, তারপর অন্য কিছু।’’

নিজের বিধানসভা কেন্দ্র কুমারগ্রামের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, সেখানে হড়পা বান একটি বড় সমস্যা। তাঁর অভিযোগ, আগের সরকারের আমলে তাঁর চোখের সামনে দুর্নীতি হয়েছে। অবৈধভাবে নদী খনন, বালি, গাছ ও পাথর চুরি—কিছুই বাদ যায়নি বলে দাবি করেন তিনি।

উত্তরবঙ্গের নদীগুলির উৎসস্থলের বড় অংশ ভুটানে হওয়ায় হড়পা বান সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য ভুটানের সঙ্গে যোগাযোগ ও সমন্বয় বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে বলেও জানান বনমন্ত্রী।

উত্তরবঙ্গে হাতি-সহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণীর আক্রমণ এবং তার জেরে মানুষের প্রাণহানির বিষয়টিও উঠে আসে সাক্ষাৎকারে। একইসঙ্গে বন্যপ্রাণীর মৃত্যুর ঘটনাও উদ্বেগের বলে জানান তিনি। মন্ত্রী বলেন, উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার করে দ্রুত এই সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করা হবে।

তাঁর বক্তব্য, নিরীহ বন্যপ্রাণীর প্রাণ যাতে না যায়, তারা যাতে বনাঞ্চলে নিরাপদে থাকে এবং চোরাশিকারিরা যাতে তাদের কোনও ক্ষতি করতে না পারে, সে দিকে নজর রাখা হচ্ছে। পাশাপাশি বন্যপ্রাণীর আক্রমণে মানুষের প্রাণহানি যাতে না ঘটে, সেই ভারসাম্যও বজায় রাখতে হবে।

মন্ত্রী বলেন, ‘‘সময় লাগবে, কিন্তু সমস্যার সমাধান করবই।’’