‘মন কি বাত’ আমার কাছে তীর্থযাত্রার মতো, ‘ভোকাল ফর লোকাল’-এর ডাক মোদীর

‘মন কি বাত’-কে তীর্থের সঙ্গে তুলনা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রবিবার তাঁর মাসিক বেতার অনুষ্ঠান ‘মন কি বাত’-এর ১৩৯তম পর্বে ফের ‘ভোকাল ফর লোকাল’ এবং ‘আত্মনির্ভর ভারত’ গড়ার বার্তা দিলেন তিনি। একই সঙ্গে দেশের উন্নয়নে সাধারণ মানুষের অবদান, জৈব কৃষি, অঙ্গদান এবং আধুনিক প্রযুক্তির গুরুত্ব তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। আসন্ন দীপাবলির শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি ৩১ অক্টোবর সর্দার বল্লভভাই পটেলের জন্মবার্ষিকীতে ‘একতা দিবস’ পালনেরও আহ্বান জানান তিনি।

প্রতি মাসের শেষ রবিবার ‘মন কি বাত’-এর মাধ্যমে দেশবাসীর সঙ্গে নিজের ভাবনা ভাগ করে নেন প্রধানমন্ত্রী। এ দিনের অনুষ্ঠানে গত ১২ বছরের যাত্রার স্মৃতিচারণ করেন তিনি। বিজয়া দশমীর দিন এই অনুষ্ঠানের সূচনা হয়েছিল বলে উল্লেখ করে মোদী জানান, ‘মন কি বাত’ তাঁকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের কাজ, তাঁদের উদ্ভাবনী উদ্যোগ এবং সমাজের প্রতি তাঁদের অবদান সম্পর্কে জানার সুযোগ করে দিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর কথায়, এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দেশের মানুষের সম্মিলিত শক্তি তথা ‘লোকশক্তি’র প্রতি শ্রদ্ধা জানান তিনি। দেশবাসীর সঙ্গে এই যোগাযোগকে নিজের কাছে অমূল্য সম্পদ বলেও উল্লেখ করেন মোদী। তাঁর দাবি, বহু শ্রোতা তাঁকে জানিয়েছেন, ‘মন কি বাত’-এর মাধ্যমে তাঁদের মনে হয় যেন পরিবারেরই একজন সদস্য তাঁদের সঙ্গে কথা বলছেন। সমাজের জন্য নিঃস্বার্থে কাজ করে চলা ব্যক্তিদের উদ্যোগকে স্বীকৃতি দেওয়ার ক্ষেত্রেও এই অনুষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে বলে জানান তিনি।


এ দিনের অনুষ্ঠানে কৃষিক্ষেত্রের বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী। পঞ্জাবের ‘খেতি বিরাসত মিশন’-এর উল্লেখ করে জৈব কৃষি এবং ঐতিহ্যবাহী কৃষিপদ্ধতির গুরুত্ব তুলে ধরেন তিনি। পঞ্জাবের মালওয়া অঞ্চলে প্রাচীন তুলো চাষের পুনরুজ্জীবনের উদ্যোগেরও প্রশংসা করেন মোদী। পাশাপাশি, দেশবাসীকে দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় মিলেট বা শ্রীঅন্ন অন্তর্ভুক্ত করার আবেদন জানান তিনি। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে স্থানীয় উৎপাদন, দেশীয় পণ্যের ব্যবহার এবং আত্মনির্ভরতার গুরুত্বও।

অঙ্গদানের আহ্বান

অঙ্গদানের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর মতে, অঙ্গদানের মাধ্যমে বহু মানুষের প্রাণ বাঁচানো সম্ভব। একই সঙ্গে চিকিৎসাবিজ্ঞান ও আধুনিক গবেষণার ক্ষেত্রেও তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। অঙ্গদানের মতো মহৎ উদ্যোগে আরও বেশি মানুষকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

প্রযুক্তি ও গবেষণার প্রসঙ্গে আইআইটি মাদ্রাজের উদ্যোগের প্রশংসা করেন মোদী। ‘পরম শক্তি’ সুপারকম্পিউটার ব্যবহার করে মস্তিষ্কের ছবি তৈরির একটি উন্নত প্রযুক্তিমঞ্চ গড়ে তোলার কথা উল্লেখ করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, এই প্রযুক্তির সাহায্যে উচ্চ-সংজ্ঞার ত্রিমাত্রিক ডিজিটাল ছবি তৈরি করা এবং ১০০টি মানবমস্তিষ্কের বিস্তারিত বিশ্লেষণ করা সম্ভব। চিকিৎসা গবেষণায় এই ধরনের প্রযুক্তির ব্যবহার ভবিষ্যতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।

দেশের প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিষেবার প্রসঙ্গেও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। ‘আয়ুষ্মান আরোগ্য মন্দির’-এর মাধ্যমে কীভাবে সাধারণ মানুষের কাছে স্বাস্থ্য পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে, তা তুলে ধরেন তিনি।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে ৩১ অক্টোবর সর্দার বল্লভভাই পটেলের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে দেশবাসীকে ‘একতা দিবস’ উদযাপনের আহ্বান জানান মোদী। দেশের ঐক্য ও সংহতির গুরুত্বের কথাও স্মরণ করিয়ে দেন তিনি। পাশাপাশি, আসন্ন দীপাবলির শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই উৎসব যেন দেশের প্রতিটি পরিবারে আনন্দ, সুস্বাস্থ্য ও সমৃদ্ধি নিয়ে আসে।