শনিবার আলোকসজ্জায় সজ্জিত রেড রোড ধরে খোলা জিপে ইডেন উদ্যানে পৌঁছবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও রাজ্যপাল আর এন রবি। রেড রোডের দু’পাশে তৈরি করা হয়েছে বিভিন্ন মঞ্চ। সেখানে বাংলার বিভিন্ন জেলার সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য, শিল্পকলা, নাচ ও গানের পরিবেশনা তুলে ধরা হবে। শোভাযাত্রা রেড রোড হয়ে ইডেনে পৌঁছবে। সেখানে মূল অনুষ্ঠানের আকর্ষণ বাড়াবে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ড্রোন প্রদর্শনী এবং ত্রিমাত্রিক আলোকচিত্রের মাধ্যমে দুর্গার আবাহনের দৃশ্যায়ন।
কলকাতার এই অনুষ্ঠান শুধু শহরেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। বিদেশে বসবাসকারী বাঙালিদের কাছেও পৌঁছে যাবে দুর্গাবরণের এই আয়োজন। দুবাইয়ের বুর্জ খলিফা, আমেরিকার বস্টন এবং নিউ ইয়র্কের টাইমস স্কোয়ারেও একযোগে এই অনুষ্ঠান দেখানোর পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে কলকাতার পাশাপাশি জেলাগুলিতেও শুরু হয়ে যাবে উৎসবের আবহ।
ইডেনের অনুষ্ঠানে সঙ্গীত পরিবেশন করবেন শান, লগ্নজিতা, কৌশিকী চক্রবর্তী ও অন্তরা মিত্র। থাকবে বাংলা ব্যান্ড দোহার এবং শান্তনু মৈত্র ও তাঁর দলের পরিবেশনা। যন্ত্রসঙ্গীতে থাকবেন দেবর্ষি ভট্টাচার্য-সহ অন্যান্য শিল্পী। সব মিলিয়ে মহালয়ার সন্ধ্যায় সঙ্গীত, নৃত্য, ঐতিহ্য ও আধুনিক প্রযুক্তির মেলবন্ধন তুলে ধরতে প্রস্তুত আয়োজকেরা।
এদিকে, গঙ্গার দুই পাড়কেও উৎসবের সাজে সাজিয়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন শিল্পী ও ব্যান্ডের পরিবেশনার পাশাপাশি থাকছে গঙ্গা আরতি। ফলে ইডেনের মূল অনুষ্ঠান ঘিরে শহরের একাধিক এলাকায় তৈরি হবে উৎসবের আবহ।
যান চলাচলে বিধিনিষেধ, শহরে দেড় হাজার পুলিশ
ইডেন উদ্যানে মহালয়ার অনুষ্ঠানের জন্য কলকাতার একাধিক রাস্তায় যান চলাচলে বিধিনিষেধ জারি করেছে ট্র্যাফিক পুলিশ। শনিবার ভোর ৪টে থেকে বিকেল ৪টে পর্যন্ত স্ট্র্যান্ড রোড এবং সেন্ট জর্জেস গেট রোডের রাজা উডমন্ট স্ট্রিট থেকে হেস্টিংস ক্রসিং পর্যন্ত অংশে পণ্যবাহী যান চলাচল বন্ধ থাকবে। তবে জরুরি পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত পণ্যবাহী যানবাহনকে ছাড় দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়াও বিটি রোড, খগেন চ্যাটার্জি রোড, কাশীপুর রোড, স্ট্র্যান্ড ব্যাঙ্ক রোড, রবীন্দ্র সরণির কেভিভি অ্যাভিনিউ থেকে বি কে পাল অ্যাভিনিউ পর্যন্ত অংশ, শোভাবাজার স্ট্রিট এবং নিমতলা ঘাট স্ট্রিটে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। বাবুঘাটগামী বাসগুলিকে হেয়ার স্ট্রিট ও স্ট্র্যান্ড রোডের সংযোগস্থল থেকে ঘুরিয়ে দেওয়া হবে।
মহালয়া উপলক্ষে শহরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রায় দেড় হাজার পুলিশকর্মী মোতায়েন করা হচ্ছে। সড়কপথ ও জলপথে নজরদারির পাশাপাশি ড্রোনের মাধ্যমেও আকাশপথে নজর রাখা হচ্ছে। বড়সড় জনসমাগমের কথা মাথায় রেখে নিরাপত্তা ও যান নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে কলকাতা পুলিশ।