কলকাতা, ২১ ফেব্রুয়ারি— শিক্ষাক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ স্কটিশ চার্চ কলেজের অধ্যক্ষা ড. মধুমঞ্জরি মণ্ডলকে মর্যাদাপূর্ণ ‘এ. সি. ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদ লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড’-এ সম্মানিত করা হল। ভক্তিবেদান্ত রিসার্চ সেন্টার, কলকাতার পক্ষ থেকে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তাঁর হাতে এই সম্মান তুলে দেন প্রতিষ্ঠানের ডিন ও ট্রাস্টি ড. সুমন্ত রুদ্র।
কলেজের সার্বিক উন্নয়ন, শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং পরিকাঠামোগত অগ্রগতিতে নিরলস প্রচেষ্টার স্বীকৃতি হিসেবেই এই সম্মান প্রদান করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ড. মণ্ডলের নেতৃত্বে কলেজ জাতীয় মূল্যায়নে ‘এ’ গ্রেড অর্জন করেছে এবং সর্বভারতীয় স্তরে সেরা একশো কলেজের তালিকায় দু’বার স্থান করে নিয়েছে।
তাঁর উদ্যোগে কলেজে গড়ে উঠেছে উদ্যোগ বিকাশ কোষ, কথাকলি দেবনাথ বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত উদ্ভাবন ও পরামর্শ কেন্দ্র এবং দক্ষতা উন্নয়ন কেন্দ্র। এছাড়া ওগিলভি হোস্টেল সংস্কার করে একাডেমিক ভবনে রূপান্তরিত করা হয়েছে। তাঁর সময়কালে দেশের ও বিদেশের একাধিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে শিক্ষাবিষয়ক সহযোগিতার সম্পর্ক গড়ে উঠেছে, যার মধ্যে রয়েছে আইআইটি খড়গপুর, ট্রিনিটি ইউনিভার্সিটি অফ এশিয়া এবং ওয়ারশ বিশ্ববিদ্যালয়।
ভক্তিবেদান্ত রিসার্চ সেন্টারের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে পুরনো ও বিরল গ্রন্থের ডিজিটাল সংরক্ষণ, দর্শনভিত্তিক ডিজিটাল গ্রন্থাগার স্থাপন, অভয় চরণ দে সেমিনার হল নির্মাণ এবং বাংলা ভাষা শেখার অনলাইন মঞ্চ চালুর মতো উল্লেখযোগ্য প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে।
সম্মান গ্রহণ করে ড. মধুমঞ্জরি মণ্ডল বলেন, ‘আমি কখনও ব্যক্তিগত সাফল্যের কথা ভাবিনি। সকলকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যাওয়াই আমার আনন্দ। কাজকে ধর্মের সংকীর্ণ সীমানায় ভাগ করার পক্ষপাতী নই। আমি সর্বজনীন মানবধর্ম ও বিশ্বভ্রাতৃত্বে বিশ্বাসী। আমার গুরু যিশুর শিক্ষাকে অনুসরণ করার চেষ্টা করি। স্কটিশ চার্চ কলেজের সামগ্রিক মানবিক শিক্ষার আদর্শের মধ্যেই আমার স্বপ্ন নিহিত।’
ড. সুমন্ত রুদ্র বলেন, ‘ড. মণ্ডলকে সম্মান জানাতে পেরে আমরা গর্বিত। তাঁর নেতৃত্ব সততা, অন্তর্ভুক্তি ও শিক্ষাগত উৎকর্ষতার প্রতিফলন। তাঁর দিকনির্দেশনায় কলেজ যে অগ্রগতি অর্জন করেছে, তা অনুপ্রেরণাদায়ক। কলেজের বিশিষ্ট প্রাক্তনী এ. সি. ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদের ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় আমাদের সহযোগিতা আগামী দিনে আরও দৃঢ় হবে বলে আমরা আশাবাদী।’
এই সম্মান প্রাপ্তির ফলে শিক্ষামহলে ড. মণ্ডলের নেতৃত্ব ও কর্মদক্ষতার স্বীকৃতি আরও একবার প্রতিষ্ঠিত হল বলে মত শিক্ষাবিদদের।