বারাসাত–শিয়ালদহ এসি লোকাল পরিষেবার সূচনা, উদ্বোধনে বিধায়ক শঙ্কর চট্টোপাধ্যায়

Photo: Representational Image

ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫তম জন্মজয়ন্তীর দিনেই বারাসাতবাসীর বহুদিনের স্বপ্ন বাস্তবায়িত হল। সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হল বারাসাত–শিয়ালদহ এসি লোকাল ট্রেন পরিষেবা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বারাসাতের বিধায়ক শঙ্কর চ্যাটার্জি, রেলের আধিকারিক এবং অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। প্রথম দিন থেকেই নতুন এই পরিষেবাকে ঘিরে যাত্রীদের মধ্যে ছিল প্রবল উৎসাহ। সকাল থেকেই বারাসাত স্টেশনে ভিড় জমাতে শুরু করেন সাধারণ মানুষ। শুধু বারাসাত বা আশপাশের এলাকা নয়, অন্য শাখা থেকেও বহু মানুষ এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী থাকতে বিশেষভাবে স্টেশনে আসেন।

উদ্বোধনের পর শঙ্কর চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘এটা শুধু একটি ট্রেনের উদ্বোধন নয়, বারাসাতের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণের দিন। বছরের পর বছর ধরে নিত্যযাত্রীরা আরামদায়ক যাতায়াতের দাবি জানিয়ে এসেছেন। আজ সেই স্বপ্ন বাস্তব হয়েছে। ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫তম জন্মজয়ন্তীতে এই পরিষেবা চালু হওয়ায় দিনটি আরও স্মরণীয় হয়ে থাকল। সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করাই আমাদের লক্ষ্য। ভবিষ্যতেও বারাসাতের রেল ও যোগাযোগ ব্যবস্থার আরও উন্নয়নে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। মানুষের সুবিধাই আমাদের কাছে সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার।’

তিনি আরও বলেন, নতুন এই পরিষেবার মাধ্যমে শুধু বারাসাত নয়, উত্তর ২৪ পরগনার বিস্তীর্ণ এলাকার হাজার হাজার নিত্যযাত্রী উপকৃত হবেন। বিশেষ করে কর্মজীবী মানুষ, ছাত্রছাত্রী এবং প্রবীণ যাত্রীদের জন্য এই এসি লোকাল অনেক বেশি স্বস্তিদায়ক হবে। আগামী দিনে আরও উন্নত রেল পরিষেবা চালুর জন্য কেন্দ্রীয় রেল মন্ত্রকের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হবে বলেও জানান তিনি।


প্রথম দিনের যাত্রীদের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। ট্রেন প্ল্যাটফর্মে ঢোকার আগেই বহু মানুষ মোবাইলে ছবি ও ভিডিও তুলতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। কেউ প্রথম যাত্রার স্মৃতি ধরে রাখতে সেলফি তোলেন, আবার কেউ পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে এই ঐতিহাসিক সফরের অংশ হতে স্টেশনে পৌঁছে যান। নতুন এসি লোকালের ভিতরে উঠে যাত্রীরা আরামদায়ক পরিবেশ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন কোচ এবং শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থার প্রশংসা করেন।

বসিরহাটের বাসিন্দা দেবাঙ্গী বসু এদিন বেলেঘাটায় একটি কাজে যাওয়ার জন্য বেরিয়েছিলেন। শিয়ালদহ যাওয়ার পথে বারাসাতে এসে জানতে পারেন, সেদিনই প্রথমবারের মতো এসি লোকাল চালু হচ্ছে। এরপর আর সুযোগ হাতছাড়া করেননি। তিনি বলেন, ‘আজ উদ্বোধন হচ্ছে শুনেই এই ট্রেনে ওঠার সিদ্ধান্ত নিই। খুব ভালো লাগছে। ভবিষ্যতে যদি বসিরহাট থেকে সরাসরি শিয়ালদহ পর্যন্ত এসি লোকাল চালু হয়, তাহলে আমাদের মতো যাত্রীদের আরও সুবিধা হবে।’

আরও এক যাত্রী দেবব্রত বসু জানান, অনেকদিন আগেই তিনি স্ত্রীকে কথা দিয়েছিলেন, বারাসাত থেকে যেদিন প্রথম এসি লোকাল চলবে, সেদিন গোটা পরিবারকে নিয়ে সেই ট্রেনে সফর করবেন। সেই প্রতিশ্রুতি রাখতে ট্রেন ছাড়ার প্রায় এক ঘণ্টা আগে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে স্টেশনে পৌঁছে যান। চারটি টিকিট কেটে ট্রেন প্ল্যাটফর্মে ঢুকতেই স্ত্রী দেবাঙ্গী বসু ও পরিবারের অন্য সদস্যদের নিয়ে উঠে পড়েন এসি লোকালে।

তাঁর কথায়, ‘বারাসাত থেকে প্রথম এসি লোকালে চড়তে পারাটা সত্যিই স্মরণীয় অভিজ্ঞতা। এতদিন অপেক্ষার পর এই পরিষেবা চালু হওয়ায় খুব আনন্দ হচ্ছে।” দেবাঙ্গী বসুও বলেন, “স্বামী কথা রেখেছেন। প্রথম দিনের এই যাত্রা আমাদের কাছে বিশেষ স্মৃতি হয়ে থাকবে। তবে ভবিষ্যতে ভাড়া কিছুটা কমানো হলে আরও বেশি মানুষ এই পরিষেবা ব্যবহার করতে পারবেন।’

এদিন বহু নিত্যযাত্রীও জানান, বর্তমান আবহাওয়ায় এসি লোকাল অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ছিল। গরমের মধ্যে ভিড় ঠেলে সাধারণ লোকালে যাতায়াত করতে নাজেহাল হতে হয়। তাই এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন তাঁরা। একইসঙ্গে তাঁদের দাবি, ভবিষ্যতে এসি লোকালের সংখ্যা আরও বাড়ানো হোক এবং এই ট্রেনে আরও বেশি স্টেশনে দাঁড়ানোর ব্যবস্থা করা হোক, যাতে বৃহত্তর সংখ্যক মানুষ এর সুবিধা পান।

রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, ট্রেনটি প্রতিদিন সকাল ১০টা ৩৩ মিনিটে শিয়ালদহ থেকে বারাসাতে পৌঁছবে এবং সকাল ১১টা ২৯ মিনিটে বারাসাত থেকে শিয়ালদহের উদ্দেশে রওনা দেবে। বারাসাত থেকে শিয়ালদহ পর্যন্ত ভাড়া রাখা হয়েছে ৬০ টাকা। রেল কর্তৃপক্ষের আশা, এই নতুন পরিষেবা উত্তর ২৪ পরগনার নিত্যযাত্রীদের যাতায়াতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।