দুর্গাপুজোয় চোরবাগানের মণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জনের মৃত্যুর ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে কালীপুজোয় আগাম সতর্ক লালবাজার। ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুজো কমিটিগুলিকে একগুচ্ছ নির্দেশ দিল কলকাতা পুলিশ।
পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দ-এর নির্দেশ, মণ্ডপে মাইক নিয়ে কোনও ঘোষণা করতে হলে পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় রেখেই তা করতে হবে। প্রয়োজনে পুলিশের উপস্থিতিতেই ঘোষণা করতে হবে।
জরুরি পরিস্থিতিতে কীভাবে দ্রুত দর্শনার্থীদের নিরাপদে মণ্ডপ থেকে বের করা হবে, তার জন্য আগাম পরিকল্পনা তৈরি রাখতে হবে প্রতিটি পুজো কমিটিকে। প্রয়োজনে সেই পরিকল্পনা পুলিশকেও জানাতে হবে। মণ্ডপে প্রবেশের রাস্তার তুলনায় বেরনোর পথের প্রশস্ততা দ্বিগুণ রাখার নির্দেশ দিয়েছে লালবাজার। দর্শনার্থীদের নিরাপদে বেরিয়ে যাওয়ার জন্য পর্যাপ্ত জায়গা রাখার কথাও বলা হয়েছে।
এই বছর কলকাতায় মোট ৩৪৪২টি কালীপুজো হচ্ছে। সোমবার ধনধান্য অডিটোরিয়ামে শহরের পুজো কমিটিগুলির সঙ্গে সমন্বয় বৈঠক করে কলকাতা পুলিশ। আগামী ১০ থেকে ১২ নভেম্বরের মধ্যে প্রতিমা বিসর্জন দিতে হবে। চোরবাগানের বিপর্যয়ের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতেই নিরাপত্তার প্রতিটি ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
চোরবাগানে বৃষ্টির কারণে প্রায় হাজার দর্শনার্থী মণ্ডপে আশ্রয় নিতে চেয়েছিলেন। তাতেই তৈরি হয় অতিরিক্ত ভিড় এবং ঘটে পদপিষ্টের ঘটনা। তাই কালীপুজোয় বৃষ্টি শুরু হলে মণ্ডপে দর্শনার্থীদের প্রবেশ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে পুলিশ। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পরেই ফের প্রবেশের অনুমতি দেওয়া যাবে।
শব্দবিধি নিয়েও কড়া নির্দেশ দিয়েছে লালবাজার। রাত ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত শুধুমাত্র পরিবেশবান্ধব সবুজ বাজি ফাটানো যাবে। লাউডস্পিকার ও সাউন্ড বক্স ব্যবহারের অনুমতি সকাল ৭টা থেকে ১১টা এবং সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত। বিসর্জনের শোভাযাত্রায় শব্দবাজি ফাটানো যাবে না। নিষিদ্ধ করা হয়েছে ডিজে-ও।
কালীপুজোয় ভিড় নিয়ন্ত্রণ থেকে শুরু করে নিরাপত্তা, কোনও ক্ষেত্রেই যাতে গাফিলতি না থাকে, তা নিশ্চিত করতে চাইছে কলকাতা পুলিশ। পুজো কমিটিগুলির সঙ্গে সমন্বয় রেখেই যাবতীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে লালবাজার।