অনলাইন প্রতারণায় কলকাতার যুবককে গ্রেপ্তার করল ওড়িশা পুলিশ

প্রতীকী চিত্র

পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতার মাঝেও দেশের অর্থনৈতিক পরিসরে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করছে অনলাইন প্রতারণা। এবার ওড়িশায় বহু কোটি টাকার এক বিনিয়োগ প্রতারণা কাণ্ডে কলকাতার এক যুবককে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। অভিযোগ, কটকের এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে প্রায় ১২ কোটিরও বেশি টাকা প্রতারণা করে নেওয়া হয়েছে।

ওড়িশা পুলিশের অপরাধ দমন বিভাগ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতের নাম রাহুল জয়সওয়াল। বয়স ৩৬ বছর। তিনি কলকাতার কাঁকুড়গাছি এলাকার বাসিন্দা। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, তিনি এমবিএ স্নাতক এবং নিজস্ব পেশায় যুক্ত ছিলেন।

পুলিশ জানিয়েছে, ২০২৫ সালের ৩১ জুলাই কটকের ওই ব্যবসায়ীর সঙ্গে প্রথম যোগাযোগ করে প্রতারক চক্র। হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে নিজেদের শেয়ার বাজারের পরামর্শদাতা পরিচয় দিয়ে তারা ওই ব্যবসায়ীকে একটি গোষ্ঠীতে যুক্ত হতে প্রলুব্ধ করে। প্রথমে নানা ভুয়ো বিনিয়োগ পরামর্শ ও মিথ্যা সাফল্যের গল্প দেখিয়ে তাঁর আস্থা অর্জন করা হয়।


এরপর ধাপে ধাপে ওই ব্যবসায়ীকে একটি ভুয়ো লেনদেন অ্যাপ নামিয়ে সেখানে টাকা বিনিয়োগ করতে বলা হয়। পুলিশের দাবি, ১২ আগস্ট থেকে ২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে মোট ৫২টি লেনদেনের মাধ্যমে ওই ব্যবসায়ী প্রায় ১২ কোটি ৩৩ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা বিভিন্ন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠান। পরে তিনি যখন সেই টাকা তুলতে যান, তখন ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণের একটি ভুয়ো অজুহাত দেখিয়ে বারবার টাকা আটকে দেওয়া হয়। তখনই ওই ব্যবসায়ী প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পারেন। এরপর তিনি ৬ সেপ্টেম্বর ওড়িশা পুলিশের সাইবার অপরাধ দপ্তরে অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্তে নামে পুলিশ। লেনদেনের তথ্য ও ডিজিটাল প্রমাণ খতিয়ে দেখে গোটা ঘটনার সূত্র খোঁজা হয়। প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ ও তথ্য যাচাইয়ের ভিত্তিতে মঙ্গলবার কলকাতার মানিকতলা এলাকায় অভিযান চালিয়ে রাহুল জয়সওয়ালকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, প্রতারিত অর্থের মধ্যে প্রায় ৪ কোটি ১৫ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা ধৃতের সঙ্গে যুক্ত একটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা পড়েছিল। অভিযানের সময় তার কাছ থেকে মোবাইল ফোন, সিম কার্ড সহ একাধিক ডিজিটাল সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে, যা তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ধৃতকে কলকাতার আদালতে তোলা হলে তাকে ট্রানজিট রিমান্ডে ওড়িশায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এই প্রতারণা চক্রে আরও কারা জড়িত, পুলিশ তা খতিয়ে দেখছে। এই ঘটনা ফের প্রমাণ করল, অনলাইন বিনিয়োগের নামে প্রতারণার ফাঁদ কতটা ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে। সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার বার্তাও দিয়েছে পুলিশ।