কলকাতায় একের পর এক অবৈধ নির্মাণের অভিযোগের তদন্তে এ বার সক্রিয় কেন্দ্রীয় তদন্ত ব্যুরো। কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশের পরই শহরের বিভিন্ন এলাকায় বেআইনি নির্মাণ সংক্রান্ত অভিযোগ খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। বৃহস্পতিবার কলকাতার ক্যানাল ইস্ট রোডের একটি তিনতলা বাড়িতে হানা দেন তদন্তকারীরা।
কেন্দ্রীয় তদন্ত ব্যুরো সূত্রে খবর, ওই বাড়িটির একটি তলা বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহার করা হয়। উপরের তলাগুলিতে বসবাস করেন মানুষ। বৃহস্পতিবার দুপুরে সেখানে পৌঁছে বাড়িটির বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন তদন্তকারীরা। স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গেও কথা বলেন তাঁরা। প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি নির্মাণ সংক্রান্ত নথি নিয়েও খোঁজখবর করা হয়।
তদন্তের কেন্দ্রে রয়েছে কলকাতার বেলেঘাটা, মানিকতলা, রাজাবাজার এবং ক্যানাল ইস্ট রোড-সহ একাধিক এলাকার বেআইনি নির্মাণ। অভিযোগ, এই এলাকাগুলিতে ৫০টিরও বেশি বাড়ি নিয়ম না মেনে তৈরি করা হয়েছে। কলকাতা পুরসভার একটি প্রতিবেদনে ৪২টি নির্মাণকে বেআইনি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সেই প্রতিবেদনকে কেন্দ্র করেই সম্প্রতি কলকাতা হাই কোর্টে মামলা দায়ের হয়।
অভিযোগ উঠেছে, বেআইনি নির্মাণ ভেঙে ফেলার নির্দেশ আগেই দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে সেই নির্দেশ কার্যকর হয়নি। শুধু তাই নয়, এই নির্মাণ ব্যবসাকে ঘিরে কয়েক হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি, কালো টাকা সাদা করা এবং বেআইনি ভাবে বিদেশি মুদ্রা বিনিয়োগের অভিযোগও আদালতে জানানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়াই একাধিক নির্মাণ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ।
বিষয়টি জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে আদালতে সওয়াল করা হয়। এর পর গত ১১ সেপ্টেম্বর প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ অবৈধ নির্মাণের অভিযোগের তদন্ত কেন্দ্রীয় তদন্ত ব্যুরোর হাতে তুলে দেয়। প্রয়োজনে কেন্দ্রীয় তদন্ত ব্যুরোকে বিশেষ তদন্তকারী দল গঠনেরও অনুমতি দেওয়া হয়েছে। আগামী ১৪ অক্টোবরের মধ্যে প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
বৃহস্পতিবার যে তিনতলা বাড়িতে হানা দেওয়া হয়েছে, সেটি নিয়ে নির্দিষ্ট কী অভিযোগ রয়েছে, তা অবশ্য এখনও স্পষ্ট নয়। বাড়িটির বাইরের দেওয়ালে এখনও প্লাস্টার হয়নি। ভিতরের নির্মাণকাজও অসম্পূর্ণ। সিঁড়িতে নেই রেলিং। তা সত্ত্বেও সেখানে বসবাস করছেন বেশ কয়েকজন। এমনকি অসম্পূর্ণ বাড়িটির কয়েকটি ঘরে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের যন্ত্রও রয়েছে।
এই ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে হাই কোর্ট। ১১ সেপ্টেম্বরের শুনানিতে আদালত জানতে চায়, বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে প্রশাসন নিজে থেকে কেন ব্যবস্থা নেয়নি। এতদিন ধরে কেন স্বতঃপ্রণোদিত তদন্ত শুরু করা হয়নি, সেই প্রশ্নও তোলে প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ। আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল, কলকাতা পুরসভা অথবা রাজ্য প্রশাসনেরই আগেভাগে এই বিষয়ে পদক্ষেপ করা উচিত ছিল। সেই কারণেই শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় তদন্ত ব্যুরোর হাতে তদন্তভার দেওয়া হয়।