নিট ইউজি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে দেশজুড়ে চলছে বিদ্রোহ। তারই মাঝে এবারে সামনে এল আরও বড় ঘটনা। ওই পরীক্ষায় কারচুপির অভিযোগ করে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন হুগলীর এক পরীক্ষার্থী। তিনি তাঁর ওএমআর শিট নতুন করে পুর্ণমূল্যায়ন করার আবেদন করেছেন। আর এবারে এই মামলায় দ্রুত ন্যাশানাল টেস্টিং এজেন্সি বা এনটিএ-র জবাব চাইলেন বিচারপতি অমৃতা সিনহা। জানিয়েছেন এই মুহূর্তে দেশে ডাক্তারিতে ভর্তির কাউন্সেলিং চলছে। তাই দ্রুত এনটিকে তার বক্তব্য পেশ করতে হবে।
এই মামলার আগামী শুনানি হবে মঙ্গলবার। মামলাটি করেছেন হুগলি ডানকুনির বাসিন্দা শ্রেয়া মহান্তি। তার দাবি ২১ জুনের পরীক্ষায় সিরিয়াল নম্বরের যে আনসার কি দেওয়া হয়েছিল তার সঙ্গে তাঁর ওএমআরের কোন মিলল নেই। শ্রেয়া জানিয়েছেন, অনসার কি অনুসারে তার পাওয়ার কথা ছিল ৬৫৯-৬৬১ এর মধ্যে নম্বর। কিন্তু এনটিএর ফল প্রকাশের পরে দেখা গিয়েছে তিনি পেয়েছেন মাত্র ২৮৯। ফারাক ৩৭০ নম্বরের। আর এটাকেই দুর্নীতি বলে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি।
নিটের পরীক্ষায় মোট নম্বর থাকে ৭২০। সেখানে প্রতিটি সঠিক উত্তরের জন্য ৪ নম্বর দেওয়া হয়। ভুল করলে ১ নম্বর কাটা হয়। সিরিয়াল নম্বর অনুসারে প্রতিটি পরীক্ষার্থী আলাদা আলাদা ওএমআর পান। সেই মত মূল্যায়ন করা হয়। তারপরে পরীক্ষার্থীদের দেওয়া হয় আনসার কি। আসলে প্রশ্ন অনুসাসরে সঠিক উত্তর কী, তা জানানো হয় আনসার কি তে। দুর্নীর্তির অভিযোগ ওঠার পরে সকল পরীক্ষার্থীদের ইমেলে আনসাসর কি পাঠানো হয়েছিল এবারে। মামলাকারী জানিয়েছেন, তার আনসার কি এর সঙ্গে ওএমআরের কোন মিল নেই।
মামলাকারীর আইনজীবী সব্যসাচী চট্টোপাধ্যায় সরাসরি হাইকোর্টে জানিয়েছেন ওএমআর শিট কম্পিউটারে দেখা হয়। সেখানে আনসার কি-এর সঙ্গে এত ফারাক হল কীভাবে? আর ৩৭০ নম্বরের ফারাক যন্ত্রের ভুলে হতে পারে না। ওএমআর যাচাইয়ের ক্ষেত্রে দুর্নীতি হয়েছে বলে আওয়াজ তুলেছেন আইনজীবী। এই মুহূ্র্তে দেশে ডাক্তারিতে ভর্তির কাউন্সেলিং চলছে। আর সেই কারমেই বিচারপতি অমৃতা সিনহা জানিয়েছেন, আদাললত চাইছে দ্রুত এই নিয়ে নিজেদের বক্তব্য জানাক এনটিএ। আগামী মঙ্গলবারে এই মামলার শুনানি রয়েছে। বিচারপতি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, ওই দিন সংস্থাকে জানাতে হবে কেন এত বড় গরমিল হয়েছে।
চলতি বছরের ৩ মে নিট পরীক্ষা হয়েছিল। সেখানে প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ সামনে আসায় পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছিল। পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল প্রায় ২২ লক্ষ। নতুন করে ২১ জুন নিট পরীক্ষা হয়েছিল। তার ফল প্রকাশ হয়েছে ১৬ জুলাই। তারপরেই বিভিন্ন রাজ্যে ওএমআর শিট নিয়ে নানা অভিযোগ সামনে এসেছে। একাধিক রাজ্যের হাইকোর্টেও মামলা হয়েছে।