অসুস্থতার অজুহাতে ধর্ষণ মামলায় অভিযুক্তের গ্রেপ্তার এড়ানোর চেষ্টা কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না,কড়া বার্তা দিল কলকাতা হাইকোর্ট। অভিযুক্তের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে প্রয়োজনে হাসপাতালে রেখেই চিকিৎসা করাতে হবে, কিন্তু আইনানুগ গ্রেপ্তার থেকে ছাড় দেওয়া যাবে না। আগামীকালই গোটা ঘটনার রিপোর্ট আদালতে পেশ করার নির্দেশও দিয়েছে প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ।
হুগলির চুঁচুড়ার বাসিন্দা পার্থসারথি ঘোষের বিরুদ্ধে এক তরুণীর অভিযোগ, তাঁর অন্তরঙ্গ ছবি ফাঁস করে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তাঁকে ধর্ষণ করা হয়। পাশাপাশি ব্ল্যাকমেল করে লক্ষাধিক টাকা এবং দামি গ্যাজেট হাতিয়ে নেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।
অভিযোগের ভিত্তিতে দায়ের হওয়া মামলায় নিম্ন আদালত এবং পরবর্তী সময়ে হাইকোর্টেও অভিযুক্তের আগাম জামিনের আবেদন খারিজ হয়। এরপরও বিধাননগরে মামার বাড়িতে থেকে তিনি গ্রেপ্তার এড়িয়ে চলছিলেন বলে অভিযোগ।
পুলিশের অভিযোগ, অভিযুক্ত নিজেকে গুরুতর অসুস্থ এবং মানসিক রোগী হিসেবে দেখিয়ে অক্সিজেন মাস্ক ব্যবহার করছিলেন। সেই পরিস্থিতিতে তাঁকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব কি না, তা নিয়ে আদালতে বিষয়টি ওঠে।
শুনানি চলাকালীন অভিযুক্তের অসুস্থতাকে গ্রেপ্তার এড়ানোর কারণ হিসেবে ব্যবহার করা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে আদালত। প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট করে দেয়, অসুস্থতা থাকলেও আইনানুগ পদক্ষেপ থামিয়ে রাখা যাবে না।
আদালতের নির্দেশ, প্রয়োজনে অভিযুক্তকে হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা করাতে হবে এবং একই সঙ্গে আইন মেনে গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়াও সম্পন্ন করতে হবে। তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাখার ব্যবস্থা করে আগামীকালই গোটা ঘটনার পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট হাইকোর্টে জমা দিতে হবে পুলিশকে।
ধর্ষণ ও ব্ল্যাকমেলের মতো গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্তের গ্রেপ্তার ঘিরে এ দিনের শুনানিতে হাইকোর্টের এই কড়া অবস্থান বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।