কলকাতা-দুবাই রুটে বাড়ল এমিরেট্সের উড়ান। রবিবার নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করল সংস্থার অত্যাধুনিক বিমান ‘এয়ারবাস এ৩৫০-৯০০’। বিমানটিকে স্বাগত জানাতে প্রথা মেনে জলকামান দিয়ে অভ্যর্থনা জানায় ভারতীয় বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। এর ফলে কলকাতা ও দুবাইয়ের মধ্যে এমিরেট্সের সাপ্তাহিক উড়ানের সংখ্যা ১১ থেকে বেড়ে ১২ হল। কলকাতা বিমানবন্দরের অধিকর্তা বিক্রম সিংয়ের কথায়, এই নতুন বিমান পরিষেবা যাত্রীদের ক্রমবর্ধমান চাহিদার প্রতিফলন। একই সঙ্গে পূর্ব ভারতের আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ব্যবস্থাকেও আরও মজবুত করবে এই উদ্যোগ।
২০০৮ সাল থেকে দীর্ঘ ১৬ বছর এমিরেট্স মূলত ‘এয়ারবাস এ৩৮০’ এবং ‘বোয়িং ৭৭৭’ বিমানের মাধ্যমে পরিষেবা দিয়ে এসেছে। ২০২৪ সালের নভেম্বরে সংস্থার বিমানবহরে যুক্ত হয় নতুন প্রজন্মের ‘এয়ারবাস এ৩৫০-৯০০’। মুম্বই ও আমদাবাদের পর এ বার কলকাতা রুটেও এই অত্যাধুনিক বিমান চালু করল সংস্থাটি।
Welcome Airbus A350! ✈️🇦🇪🇮🇳
#AAI’s NSCBI Airport, Kolkata accorded a ceremonial Water Cannon Salute to @emirates’ newly introduced Airbus A350 today, marking an increase in weekly Kolkata–Dubai operations from 11 to 12 flights per week! 💦🛫(1/3)
#Emirates #AirbusA350 https://t.co/lsz1CaDCAY— Kolkata Airport (@aaikolairport) October 25, 2026
প্রযুক্তি ও পরিবেশবান্ধব বৈশিষ্ট্যের দিক থেকেও উল্লেখযোগ্য এই বিমান। চওড়া কাঠামোর এই উড়ানে ব্যবহার করা হয়েছে উন্নত কার্বন ফাইবার যৌগিক উপাদান এবং ‘রোলস-রয়েস ট্রেন্ট এক্সডব্লিউবি’ ইঞ্জিন। সংস্থার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পুরনো প্রজন্মের সমতুল্য বিমানের তুলনায় এটি প্রায় ২৫ শতাংশ কম জ্বালানি খরচ করে। পাশাপাশি, কার্বন নিঃসরণের পরিমাণও প্রায় ২৫ শতাংশ কম।
যাত্রীদের স্বাচ্ছন্দ্যের কথা মাথায় রেখেও সাজানো হয়েছে ৩১২ আসনের বিমানটি। রয়েছে ৩২ আসনের বিজ়নেস ক্লাস, ২৫৯ আসনের ইকোনমি ক্লাস এবং ২১ আসনের প্রিমিয়াম ইকোনমি ক্লাস। উঁচু ছাদ, প্রশস্ত আসন এবং কেবিনের ভিতরে তুলনামূলক কম শব্দ দীর্ঘ যাত্রাকে আরও আরামদায়ক করে তুলবে বলে আশা।
পূর্ব ভারত থেকে ইউরোপ ও আমেরিকায় যাতায়াতের ক্ষেত্রে দুবাই অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সংযোগকেন্দ্র। ফলে কলকাতা-দুবাই রুটে উড়ানের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং নতুন প্রজন্মের বিমানের অন্তর্ভুক্তি আন্তর্জাতিক যাত্রীদের যাতায়াত আরও সুবিধাজনক করে তুলবে বলে মনে করা হচ্ছে। একই সঙ্গে কলকাতা থেকে আন্তর্জাতিক বিমান যোগাযোগের ক্ষেত্রেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি হল।