ঘিঞ্জি এলাকায় একাধিক হোটেল চলছে। কোথাও সরু সিঁড়ি, কোথাও পর্যাপ্ত জানলা নেই, কোথাও জরুরি বহির্গমনের ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। প্রাথমিকভাবে সামনে আসা তথ্য অনুযায়ী, আগুনের ধোঁয়ায় দমবন্ধ হয়ে অধিকাংশের মৃত্যু হয়েছে। প্রায় ৮০ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে।
এখন মূল প্রশ্ন, এই হোটেলগুলি কী ভাবে চলছিল? কলকাতা পুরসভার ট্রেড লাইসেন্স দেওয়ার প্রক্রিয়ায় ব্যবসার জায়গা, ভবন গঠনের ধরন, ব্যবহারের ধরন-সহ একাধিক তথ্য নেওয়া হয়। হোটেলের ক্ষেত্রে দমকলের লাইসেন্স বা ছাড়পত্রের প্রয়োজনীয়তার কথাও পুরসভার নথিতে রয়েছে।
তা হলে এতটা গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় এমন একটি হোটেলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে আগে থেকেই কোনও আপত্তি বা নজরদারির প্রশ্ন উঠল না কেন? পুরসভার মূল ভবন থেকে মাত্র তিনশো মিটার দূরে থাকা একটি এলাকায় নিয়মিত পরিদর্শন হলে ঝুঁকিগুলি নজরে আসার কথা। পুরসভা সেই নজরদারি ঠিকমতো চালিয়েছিল কিনা, নাকি দেখেও কোনও গুরুত্ব দেয়নি, সেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
তবে এর দায় এককভাবে পুরসভার উপর বর্তায় কি না, তা তদন্তেই স্পষ্ট হবে। কারণ ভবনের নির্মাণ, ব্যবসার অনুমতি এবং অগ্নি-নিরাপত্তা—প্রতিটি ক্ষেত্রেই একাধিক দপ্তরের ভূমিকা রয়েছে। কিন্তু পুরসভার কাছে যদি হোটেলটির ব্যবসা ও অবস্থানের তথ্য থাকতো, তা হলে নিরাপত্তার ঘাটতি সম্পর্কে আগে কোনও সতর্কতা তৈরি হয়েছিল কি না, সেই নথিই এখন গুরুত্বপূর্ণ।
এই বিধ্বংসী আগুনের ঘটনা শুধু একটি হোটেলের গাফিলতির নমুনা নয়। শহরের সবচেয়ে ব্যস্ত এলাকাগুলির একটিতে নজরদারি, লাইসেন্স এবং নিয়মিত পরিদর্শন কতটা কার্যকর ছিল, সেই প্রশ্নও সামনে এনে দিয়েছে। তদন্তের পাশাপাশি পুরসভার পুরনো লাইসেন্স, পরিদর্শনের রিপোর্ট এবং অগ্নি-নিরাপত্তা সংক্রান্ত নথি খতিয়ে দেখার দাবিও তাই জোরালো হচ্ছে।