শাড়ি পার্সেল করার আড়ালে বিরল পাখির পালক পাচারের চাঞ্চল্যকর ছক ফাঁস হলো দক্ষিণ ২৪ পরগনায়। সোমবার বারুইপুর পোস্ট অফিসে বড় আকারের একটি বাক্স নিয়ে হাজির হয়েছিলেন এক ব্যক্তি। কিন্তু বাক্সের অস্বাভাবিক ওজন ও গড়নের কারণেই পোস্ট অফিসের কর্মীদের সন্দেহ হয়। সেই সন্দেহই শেষ পর্যন্ত পাচারচক্রের পর্দা ফাঁস করে দেয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঢোলাহাট থানার উত্তরাবাদের বাসিন্দা মিনাতুল্লাহ নেগাবন বারুইপুর পোস্ট অফিসে গিয়ে কর্মীদের জানান, তিনি কয়েকটি শাড়ি পার্সেল করে পাঠাতে চান। কর্মীদের অনুরোধে বাক্স খুলে দেখাতে বলা হলে তিনি প্রথমে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পরে পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে পোস্ট অফিস ছেড়ে পালানোর চেষ্টা করেন মিনাতুল্লাহ। তবে সতর্ক কর্মীরা তাঁকে ধরে ফেলেন।
এরপর বাক্স খুলতেই সামনে আসে চমকে দেওয়ার মতো দৃশ্য। ভিতরে থাকা শাড়ির ভাঁজে ভাঁজে লুকিয়ে রাখা ছিল একাধিক ছোট প্যাকেট। প্রতিটি প্যাকেটেই ঠাসা ছিল রঙিন মাছরাঙার পালক। মোট ৪১টি প্যাকেট উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
খবর পেয়ে দ্রুত বারুইপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছয় এবং মিনাতুল্লাহকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে ধৃত দাবি করেছেন, তিনি বিহার থেকে এই পালক নিয়ে এসেছেন। যদিও তাঁর বক্তব্য সম্পূর্ণ বিশ্বাসযোগ্য নয় বলেই মনে করছেন তদন্তকারীরা।
পুলিশের সন্দেহ, উদ্ধার হওয়া মাছরাঙার পালক বিদেশে পাচারের উদ্দেশ্যেই শাড়ির মধ্যে লুকিয়ে পার্সেল করা হচ্ছিল। কোথা থেকে এই পালক সংগ্রহ করা হয়েছে, কোন দেশে পাচারের ছক ছিল এবং এই চক্রের সঙ্গে আর কারা যুক্ত— সব দিক খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
বনদপ্তরের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। কারণ, মাছরাঙা সংরক্ষিত পাখির তালিকাভুক্ত। বেআইনিভাবে পালক সংগ্রহ ও পাচারের সঙ্গে যুক্ত থাকলে কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। এই ঘটনার নেপথ্যে বড় কোনও পাচারচক্র কাজ করছে কি না, তা খুঁজে দেখছেন তদন্তকারীরা।