নজিরবিহীন পরিস্থিতি! CBI তদন্ত চলাকালীন একই ঘটনায় পুলিশের নতুন তদন্ত—খড়দহ থানার IC-কে তলব হাইকোর্টের

Photo: Statesman

কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআইয়ের তদন্তাধীন একটি ঘটনার বিষয়ে খড়দহ থানায় নতুন করে মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু হওয়ায় প্রশ্ন তুলল কলকাতা হাইকোর্ট।

আদালতের নজরে এসেছে, ২০২৪ সালের ৯ অগস্টের অভয়া ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়েই সিবিআই ইতিমধ্যে তদন্ত করেছে। সেই তদন্ত এখনও আদালতের নজরদারিতে চলছে। এর মধ্যেই খড়দহ থানায় দায়ের হওয়া পৃথক মামলার তদন্ত কীভাবে শুরু হল, তা জানতে চাইল ডিভিশন বেঞ্চ।

সোমনাথ দে-র দায়ের করা মামলার শুনানিতে বিচারপতি শম্পা সরকার ও বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের বেঞ্চ প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে জানিয়েছে, চলতি বছরের ১০ অগস্ট খড়দহ থানায় যে তদন্ত শুরু হয়েছে, সেটি একই ঘটনার সূত্রে হয়েছে বলেই প্রাথমিক ভাবে মনে হচ্ছে। ওই ঘটনা নিয়েই সিবিআই ইতিমধ্যে তদন্ত করেছে এবং এখনও তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।


আদালত আরও উল্লেখ করেছে, সিবিআইয়ের তদন্ত এই বেঞ্চের নজরদারিতে রয়েছে। ঘটনার সামগ্রিক দিক খতিয়ে দেখে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা নিয়মিত আদালতে রিপোর্টও দিচ্ছে।

অন্যদিকে, নির্যাতিতার পরিবারের হয়ে সওয়াল করা সিনিয়র আইনজীবী জয়ন্ত নারায়ণ চট্টোপাধ্যায় দাবি করেন, এই পর্যায়ে পুলিশের তদন্ত স্থগিত করা বা অন্য কোনও সংস্থার হাতে তুলে দেওয়ার প্রশ্ন ওঠে না। তাঁর বক্তব্য, সিবিআইয়ের তদন্তের পরবর্তী সময়ে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলিও খড়দহ থানায় দায়ের করা অভিযোগের অংশ। ফলে দুই তদন্তের পরিধি পৃথক।

দুই পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদালত খড়দহ থানার আইসি এবং সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী আধিকারিককে ১ অক্টোবর ২০২৬ দুপুর ২টোর সময় আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

আদালতের নির্দেশে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, সিবিআই যখন ইতিমধ্যেই একই ঘটনার তদন্ত করছে এবং সেই তদন্ত আদালতের নজরদারিতে রয়েছে, তখন খড়দহ থানার তদন্ত কীভাবে শুরু হল, সে বিষয়ে কয়েকটি বিষয় পরিষ্কার করতে চায় আদালত।

পাশাপাশি, পরবর্তী শুনানিতে মামলার কেস ডায়েরিও আদালতে পেশ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ফলে আগামী ১ অক্টোবরের শুনানি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ওই দিন খড়দহ থানায় তদন্ত শুরুর প্রেক্ষাপট ও গতিপ্রকৃতি এবং সিবিআইয়ের চলমান তদন্তের সঙ্গে পুলিশের তদন্তের সম্পর্ক নিয়ে আদালতে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিতে হবে সংশ্লিষ্ট পুলিশ আধিকারিকদের।

শেষ পর্যন্ত নির্যাতিতার পরিবার সুবিচার পাবে কি না, সেই প্রশ্নই ফের সামনে এসেছে আদালতের এই শুনানিকে ঘিরে।