তৃণমূল কংগ্রেসের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ মামলা নিয়ে বড় নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। দলের দৈনন্দিন কাজকর্ম যাতে কোনও ভাবেই থমকে না যায়, সেই বিষয়টিকেই অগ্রাধিকার দিল শীর্ষ আদালত। সেই সঙ্গে কলকাতা হাইকোর্টে নিযুক্ত বিশেষ আধিকারিকের বিবেচনার উপর বিষয়টি ছেড়ে দিয়ে দুই অন্তর্বর্তী আবেদনই নিষ্পত্তি করে দিল বিচারপতি এম.এম সুন্দরেশ এবং বিচারপতি পি.বি ভারালের বেঞ্চ।
মঙ্গলবার শুনানিতে তৃণমূলের হয়ে সওয়াল করেন প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিব্বল। তাঁর দাবি, প্রায় ৬০ কোটি টাকার ‘অপরাধলব্ধ অর্থ’-এর অভিযোগে ৪০০ কোটিরও বেশি টাকা ফ্রিজ করে রাখা হয়েছে। ফলে দলের প্রায় ২৫০ কর্মীর বেতন, অফিসের খরচ এবং বিভিন্ন পরিষেবার বিল মেটানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
সিব্বল আদালতে জানান, কর্মীদের চলতি মাসের বেতন বাবদ প্রায় ৫৩.২৩ লক্ষ টাকা দিতে হবে। এর পাশাপাশি ১৭টি দলীয় কার্যালয়ের মাসিক খরচ প্রায় ১ কোটি টাকা। তাঁর বক্তব্য, “অভিযোগের অর্থ যদি ৬০ কোটি হয়, তাহলে ৪০০ কোটির বেশি টাকা কেন ফ্রিজ করা হবে?” কেন্দ্রের অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল এসভি রাজু পাল্টা জানান, কলকাতা হাইকোর্টের ৯ জুলাইয়ের নির্দেশেই দৈনন্দিন খরচের জন্য তিনটি অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। তাঁর দাবি, ইন্ডিয়ান ব্যাঙ্কের দু’টি অ্যাকাউন্টে থাকা প্রায় ১২৫ কোটি টাকা ইডির আওতায় নেই।
এ সময় বিচারপতি সুন্দরেশ জানতে চান, “কত টাকা রয়েছে?” রাজুর উত্তরে উঠে আসে ১২৫ কোটি টাকার হিসাব। যদিও সিব্বল দাবি করেন, ওই অ্যাকাউন্টগুলিও বাধার মধ্যে রয়েছে। রাজু জানান, এ বিষয়ে আদালতে হলফনামা দেওয়া হবে। মামলায় অন্য পক্ষের হয়ে সওয়াল করতে গিয়ে আইনজীবী কে পরমেশ্বর তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ বিরোধের প্রসঙ্গ তোলেন। তাঁর দাবি, দলটির প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ কার হাতে, সেই প্রশ্ন নির্বাচন কমিশনের কাছে বিচারাধীন। ফলে হাইকোর্টের অন্তর্বর্তী ব্যবস্থায় একটি পক্ষকে অ্যাকাউন্ট পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হলে তাঁদের অবস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
তবে এই বিতর্কে সরাসরি ঢুকতে চায়নি শীর্ষ আদালত। বিচারপতি সুন্দরেশ স্পষ্ট করে দেন, দুই নির্দেশই অন্তর্বর্তী। আদালতের উদ্দেশ্য ছিল, দলের দৈনন্দিন কাজকর্ম যেন থেমে না যায়। ৯ জুলাইয়ের হাইকোর্টের নির্দেশ সেই প্রয়োজন মেটাচ্ছে কি না, সেটিই মূল বিষয় বলে জানায় বেঞ্চ।
আরও পড়ুন: ভিক্টোরিয়ায় পৌঁছে গেল ‘দিব্যা’, পার্পল লাইনে বড় সাফল্য মেট্রোর
শেষ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দেয়, দুই অন্তর্বর্তী মামলাই নিষ্পত্তি করা হচ্ছে। অ্যাকাউন্ট পরিচালনা ও দৈনন্দিন খরচের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি কলকাতা হাইকোর্ট নিযুক্ত বিশেষ আধিকারিকের বিবেচনার উপরই ছেড়ে দেওয়া হল। কোনও পক্ষের আরও বক্তব্য থাকলে তা মূল মামলায় জানাতে হবে। অর্থাৎ, অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ নিয়ে তৃণমূলের দাবি-আপত্তি এবং বিরোধী পক্ষের অভিযোগের মধ্যে আপাতত কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়। দৈনন্দিন কাজ চালু রাখা এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনায় নজরদারির ভার বিশেষ আধিকারিকের হাতেই রেখে দিল সুপ্রিম কোর্ট।