ডিম ছোড়ার ঘটনায় কলকাতা হাইকোর্টের ভর্ৎসনার মুখে কালীঘাট তৃণমূলের আইনজীবী। সোমবার এই ঘটনায় ২৪ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দিলেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী। তৃণমূলের সাংসদ, বিধায়ক, পুর প্রতিনিধি থেকে শুরু করে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা ও নেত্রীদের উদেশ্যে ডিম ছোড়ার ঘটনায় কালীঘাট তৃণমূলের আইনজীবীর বক্তব্যে তপোব্রত চক্রবর্তী তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। সেই সঙ্গে কালীঘাট তৃণমূল যে ডিম ছোঁড়া নিয়ে অভিযোগ করেছে তার সপক্ষে আদালতে আগামীকালের মধ্যে তথ্য প্রমাণ জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্টের বিচারপতি।
কালীঘাট তৃণমূলের পক্ষের আইনজীবী অর্ক নাগ সোমবার ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তীর ডিভিশন বেঞ্চে জানান, আগের থেকে ডিম ছোড়ার ঘটনা আরও বেড়েছে। আদালত চত্বরও সেফ নয়। সেই সময়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি পুলিশকে প্রো অ্যাকটিভ থাকার কথা জানান।
রাজ্যের অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল রাজদীপ মজুমদার জানান, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে রাজ্যের বিভিন্ন জেলাগুলিতে এডিশনাল এসপি থেকে শুরু করে পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের এই নোটিস পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেখানে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে কোনও রকম এই ডিম থেরাপির ঘটনা না ঘটে। আদালত চত্বরে পুলিশ যাতে অভিযুক্তদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে পারে ডিম আক্রমণ থেকে তাও উল্লেখ করা হয়েছে।
সম্প্রতি বিধাননগর থানায় তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে যেভাবে পুলিশ নিরাপত্তা দিয়েছে, সেই বিষয়টাও আজকে উল্লেখ করেন অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল। তিনি জানান, সম্প্রতি একজন বিধাননগর আদালতে কণ্ঠস্বর দিতে যাওয়ার সময় পুলিশ আদালত চত্বর ফাঁকা করে দেয়। কালীঘাট তৃণমূলের পক্ষের আইনজীবীদের উদ্দেশে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির প্রশ্ন, ‘৩০ জুন থেকে এখনের তথ্য দেখান।’
আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন বলেন, ‘প্রতিনিয়ত এমন ঘটনা ঘটছে। কিন্তু পুলিশের কাছে অভিযোগ করা যাচ্ছে না। অভিযোগ করতে গেলে মারধর করা হচ্ছে। একজন মহিলা সাংসদ এই হেনস্থার শিকার হয়েছেন। থানায় অভিযোগ জানাতে গেলে ১০-১৫ জন দুষ্কৃতী থানার সামনে চলে আসে। সব জায়গায় এই ঘটনা ঘটছে। একজন মন্ত্রী আদালতে ডিম ছুঁড়তে বারণ করে পাথর ছোঁড়ার কথা বলছেন। মুর্শিদাবাদ গিয়েছিলাম ওখানে টায়ার পামচারের পর কিছু লোক সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসেন। কিছু লোক সেইসময় চোর স্লোগান দিতে থাকে।’