​ব্যক্তিগত ছবি ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ২০ লাখ টাকা ও ফ্ল্যাট দাবি! জোড়াসাঁকোয় সাইবার চাঁদাবাজির বড় চক্রের ফাঁদ

Photo-SNS

তিন বছরের পুরনো মামলায় নড়েচড়ে বসল কলকাতা পুলিশ। ব্যক্তিগত ছবি, ভিডিও ও গোপন কথোপকথন ফাঁসের ভয় দেখিয়ে এক তরুণীর কাছ থেকে ২০ লক্ষ টাকা এবং একটি ফ্ল্যাট দাবি করার অভিযোগ উঠেছে একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ঘটনাটি নিয়ে ২.১০.২০২৩ তারিখে জোড়াসাঁকো থানায় মামলা করা হয়েছিল।
অভিযোগ, মোবাইল ফোন থেকে ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নিয়ে ব্ল্যাকমেলিং ও তোলাবাজির ছক কষেছিল অভিযুক্তরা। সমাজমাধ্যমে ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে দিয়ে তরুণী এবং তাঁর পরিবারের সম্মানহানিরও চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ।

জোড়াসাঁকো থানায় দায়ের হওয়া মামলার তদন্তে একাধিক ব্যক্তির নাম উঠে এসেছে। বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে কিছু ডিজিটাল তথ্যপ্রমাণও। তবে এই চক্রের পরিধি কতটা বিস্তৃত, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

অভিযোগকারিণী মধ্য কলকাতার এম জি রোড এলাকার বাসিন্দা। এফআইআরের বয়ান অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ২ অক্টোবরের আগে তাঁর অজান্তেই মোবাইল ফোন থেকে ব্যক্তিগত ছবি, ভিডিও এবং প্রাক্তন স্বামী হাসান আব্বাসের সঙ্গে কথোপকথনের স্ক্রিনশট কপি করে নেওয়া হয়। এই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত হিসেবে শাহ ফয়জল রাজার নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগ, ব্যক্তিগত তথ্য হাতে পাওয়ার পর সেই তথ্যকে হাতিয়ার করেই তরুণীকে ব্ল্যাকমেল করার পরিকল্পনা করা হয়। শাহ ফয়জল রাজা, জুনাইদ আলম ও মহম্মদ সোহেল ওই তরুণীকে ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও অন্যদের কাছে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখান বলে অভিযোগ।


এফআইআরে দাবি করা হয়েছে, ওই তথ্য প্রকাশ্যে আনার হুমকি দিয়ে তরুণীর কাছ থেকে ২০ লক্ষ টাকা এবং ১০৪, এম এম বর্মন স্ট্রিটের একটি ফ্ল্যাট দাবি করা হয়। পাশাপাশি, শাহ ফয়জল রাজার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে। দাবি পূরণ না করলে ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস করে দেওয়ার ভয় দেখানো হয় বলে অভিযোগকারিণীর বক্তব্য।

সমাজমাধ্যমে ব্যক্তিগত ছবি প্রকাশের অভিযোগ

অভিযোগ, টাকা ও ফ্ল্যাটের দাবি মেনে না নেওয়ায় ওই তরুণীর ব্যক্তিগত ছবি, ভিডিও, কণ্ঠস্বরের রেকর্ডিং এবং অবমাননাকর মন্তব্য ফেসবুকে প্রকাশ করা হয়। এই ঘটনায় শাহ ফয়জল রাজা, মহম্মদ হুসেন, জুনাইদ আলম, হুসেন আলি, মহম্মদ ফারুক ওরফে আরজু, মহম্মদ শামশাদ, মহম্মদ আলমগির ওরফে রাজু, খালিদ রাজা, মহম্মদ মাজিদ আনসারি, মহম্মদ সোহেল, অঙ্কিত শর্মা ও জুনেদ খানের নাম অভিযোগে রয়েছে।

এফআইআরে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, মহম্মদ হুসেন, খালিদ রাজা, অঙ্কিত শর্মা ও জুনেদ খানের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে ওই তরুণীর কিছু ব্যক্তিগত ছবি, ভিডিও এবং অডিও রেকর্ডিং অবমাননাকর মন্তব্য-সহ প্রকাশ করা হয়। এর ফলে তাঁর ব্যক্তিগত মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হওয়ার পাশাপাশি পরিবারের সামাজিক সম্মান ও ভাবমূর্তির ক্ষতি করার চেষ্টা হয়েছিল বলে অভিযোগ।

এ ছাড়াও, হোয়াটসঅ্যাপ এবং একাধিক অজ্ঞাতপরিচয় ফোন নম্বর থেকে ওই তরুণীকে হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে। ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ্যে আনার ভয় দেখিয়ে তাঁকে ক্রমাগত চাপে রাখার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে দাবি অভিযোগকারিণীর।

তদন্তে ডিজিটাল তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ

মামলার তদন্তে অভিযোগকারিণীর কাছ থেকে জুয়েদ খান ও অঙ্কিত শর্মার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে আপলোড করা কয়েকটি ছবি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। ওই ছবি-সহ অন্যান্য ডিজিটাল তথ্যের সূত্র ধরে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।

পুলিশের অনুমান, এটি কেবল একক কোনো ঘটনার ফল নয়, এর পেছনে একটি বড় চক্র কাজ করছে। অভিযোগপত্র নাম থাকা সমস্ত অভিযুক্ত ও তাদের সহযোগীদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যে ডিজিটাল মাধ্যমগুলি ব্যবহার করে সাইবার অপরাধ ঘটানো হয়েছে, সেগুলি শনাক্ত করে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করার চেষ্টা চালাচ্ছে লালবাজার ও স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন।