ইউনেস্কোর নাম ভাঁড়িয়ে দুর্নীতির অভিযোগের তদন্তে ইন্দ্রনীল সেনের মেয়েকে আগামীকাল দুপুরে লালবাজারে তলব করেছে কলকাতা পুলিশ। হাজির না হলে দ্বিতীয় নোটিস পাঠানো হবে বলে পুলিশ সূত্রের খবর। তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে হওয়া লেনদেনের উৎস ও পরিমাণ জানতে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চাইছেন গোয়েন্দারা।
অন্যদিকে, ইন্দ্রনীল ও তাঁর স্ত্রী মধুছন্দাকে মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করেছে পুলিশ। দু’জনের বয়ানে একাধিক অসঙ্গতি রয়েছে বলে দাবি। এই নিয়ে পরিবারেও একাধিকবার অশান্তি হয়েছে বলে খবর। নথি ও প্রমাণের সঙ্গে বক্তব্য মিলিয়ে দেখে ফের তাঁদের আলাদা করে জেরা করা হতে পারে।
তদন্তের অগ্রগতির কথা মাথায় রেখে সিটের সদস্য সংখ্যা পাঁচ থেকে বাড়িয়ে ন’জন করেছে লালবাজার। এখনও পর্যন্ত ২৬টি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের হদিস মিলেছে। অভিযোগ, ওই অ্যাকাউন্টগুলির মাধ্যমে প্রায় ১০০ কোটি টাকার বেআইনি লেনদেন হয়েছে। বিদেশি কোনও অ্যাকাউন্টের সন্ধান এখনও মেলেনি। ইডির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেও তদন্ত চলছে। তবে ইউনেস্কোর তরফ থেকে জবাব এখনও অমিল।
তদন্তে উঠে এসেছে, যে ২৪টি দুর্গাপুজোর প্রিভিউ শো ঘিরে ডোনার পাস বিক্রির অভিযোগ, সেই পুজোগুলির টেন্ডারেও গরমিল ছিল। ইন্দ্রনীল পর্যটনমন্ত্রী থাকাকালীন তাঁর ঘনিষ্ঠ তিনটি সংস্থাকে বরাত দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ। ২৪টি মণ্ডপের বাইরে এলইডি স্ক্রিনে মহালয়া থেকে টানা ১২ দিন বিজ্ঞাপন দেখানোর পরিকল্পনা ছিল। সেই কাজের টেন্ডার ও আর্থিক লেনদেনেও একাধিক অসঙ্গতি পেয়েছেন তদন্তকারীরা।
পুলিশ সূত্রে খবর, ওই দুই সংস্থা আবার অন্য একটি সংস্থাকে কাজের বরাত দিত। বিজ্ঞাপনদাতা সংস্থাগুলির কাছ থেকে আসা টাকা বিভিন্ন হাত ঘুরে ইন্দ্রনীল ও তাঁর ঘনিষ্ঠদের কাছে পৌঁছত বলে অভিযোগ। পুজোর উদ্যোক্তাদের এলইডি স্ক্রিন বসানোর জন্য দেড় থেকে দু’লক্ষ টাকা দেওয়া হত। পাশাপাশি, প্রিভিউ শোয়ের ডোনার পাস বিক্রির টাকাও একাধিক অ্যাকাউন্টে জমা পড়েছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
ইন্দ্রনীলের একাধিক অ্যাকাউন্টে প্রায় প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ নগদ জমা পড়ার তথ্য মিলেছে। তাঁর মেয়ের সংস্থার অ্যাকাউন্ট থেকেও প্রাক্তন বিধায়কের অ্যাকাউন্টে টাকা ঢোকার হদিস পেয়েছেন তদন্তকারীরা। সব মিলিয়ে পাস বিক্রি ও সরকারি টেন্ডারের মাধ্যমে আসা টাকার উৎস খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
এদিকে, ইন্দ্রনীলকে এমপিও আইনের আওতায় আনতে চাইছে কলকাতা পুলিশ। আগামী এক-দু’দিনের মধ্যে আদালতে আবেদন করবে পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, এই ঘটনায় সাধারণ মানুষের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। সেই যুক্তিতেই তাঁকে ওই আইনের আওতায় আনার প্রস্তুতি চলছে।