আলুচাষিদের জন্য একগুচ্ছ ঘোষণা শুভেন্দুর, পরিবহণে ভর্তুকি থেকে ফসলের বিমার আশ্বাস

File Photo

উৎপাদন খরচ বাড়লেও আলুর ন্যায্য দাম না মেলায় দীর্ঘদিন ধরেই লোকসানের মুখে পড়ছেন রাজ্যের চাষিরা। চাষের খরচ, হিমঘরে সংরক্ষণ এবং পরিবহণের ব্যয় সামলে লাভের মুখ দেখা কঠিন হয়ে পড়েছে তাঁদের। আগের সরকারের আমলে আলু রফতানিতে বিধিনিষেধ নিয়েও ক্ষোভ ছিল কৃষকদের একাংশের। নতুন সরকারের কাছে তাই প্রত্যাশা ছিল অনেক। বৃহস্পতিবার হুগলির পুরশুড়ায় গিয়ে আলুচাষিদের জন্য একাধিক পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পরিবহণে ভর্তুকি, ফসলের বিমা এবং বাজারদর নিয়ন্ত্রণে সরকারি সহায়তা—একাধিক বিষয়ে আশ্বাস দিলেন তিনি।

এদিনের সভা থেকে আগের সরকারকে নিশানা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে আলুর গাড়ি সীমান্তে আটকে দেওয়া হয়েছে। পুলিশকে কাজে লাগিয়ে চাষিদের বিপাকে ফেলা হয়েছে। দিনের পর দিন সারের কালোবাজারি চলেছে, অথচ আলুর ন্যায্য দাম পাননি কৃষকরা। এবার থেকে আলুবোঝাই কোনও গাড়ি সীমান্তে আটকানো হবে না বলে আশ্বাস দেন শুভেন্দু।

আলুচাষিদের সুবিধার্থে একগুচ্ছ সিদ্ধান্তের কথাও জানান তিনি।

কোল্ড স্টোরেজের আলু নিয়ে সিদ্ধান্ত: হিমঘরে সংরক্ষিত ২৭ লক্ষ আলু ৩০ নভেম্বরের মধ্যে নিষ্পত্তি করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে সেই সময়সীমা ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হতে পারে।


পরিবহণে ভর্তুকি: সড়কপথে গাড়ি কিংবা রেলে আলু পরিবহণের ক্ষেত্রে প্রতি কুইন্টালে ৫০ টাকা করে ভর্তুকি দেবে রাজ্য সরকার।

কোল্ড স্টোরেজের ভূমিকা: কৃষিপণ্য বিপণন নিয়ন্ত্রণ আইনে প্রতিটি কোল্ড স্টোরেজকে ‘মার্কেটিয়ার’ হিসেবে ঘোষণা করা হবে। এর ফলে হিমঘরগুলির মধ্যে সমন্বয় বাড়বে। সরকারি সহায়তা পাওয়ার পাশাপাশি আলু বিক্রির ক্ষেত্রেও স্বাধীনতা মিলবে।

সৌরশক্তিচালিত মিনি হিমঘর: ২০০টি মার্কেটিয়ারে ৫ ও ১০ মেট্রিক টন ধারণক্ষমতার সৌরশক্তিচালিত মিনি কোল্ড রুম তৈরি করা হবে।

স্মার্ট মান্ডি: রাজ্যের ৫০টি মান্ডিকে আদর্শ মান্ডি হিসেবে গড়ে তোলা হবে। প্রতিটি মান্ডির উন্নয়নে বরাদ্দ করা হচ্ছে ৩ কোটি টাকা।

সুফল বাংলার সম্প্রসারণ: সুফল বাংলার আওতায় নতুন করে ৫৫০টি বহনযোগ্য ও স্থায়ী বিক্রয়কেন্দ্র চালু করা হবে। সেখানে ন্যায্য মূল্যে আলু কেনাবেচার ব্যবস্থা থাকবে।

ফসলের বিমা: প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনার আওতায় আলুচাষকে নিয়ে আসা হবে। আলুচাষিদের বিমার প্রিমিয়াম দিতে হবে না। সেই খরচ সরকারই বহন করবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

আলুর দামে সরকারি সুরক্ষা: ইতিমধ্যেই ৪৯টি হিমঘর থেকে প্রতি কুইন্টাল ৯৫০ টাকা দরে মোট ৪.৭৫ লক্ষ কুইন্টাল আলু কেনা হয়েছে। ৫৬৭টি হিমঘরে সেই আলু সংরক্ষণ করা হয়েছে। প্রতি কুইন্টাল আলুর বাজারদর ১১২০ টাকা ফ্রি বন্ড মূল্যের নীচে নেমে গেলে সরকার ভর্তুকি দিয়ে দামের ফারাক পূরণ করবে।

আলুচাষিদের লোকসান সামাল দিতে উৎপাদন থেকে সংরক্ষণ, পরিবহণ এবং বিক্রির প্রতিটি স্তরেই সরকারি হস্তক্ষেপের কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে ঘোষিত পদক্ষেপগুলি বাস্তবে কত দ্রুত কার্যকর হয় এবং তার ফলে চাষিরা কতটা ন্যায্য দাম পান, এখন সেদিকেই নজর থাকবে।