উল্টোডাঙা পর্যন্ত ভিআইপি রোডের দু’ধারে বেআইনি দখল হলে রেয়াত নয়, জেলাশাসককে কড়া বার্তা হাইকোর্টের

Calcutta High Court Photo-SNS

ভিআইপি রোডের দু’ধারে বেআইনি দখলদারি উচ্ছেদ নিয়ে রাজ্য প্রশাসনকে কড়া বার্তা দিল কলকাতা হাইকোর্ট। শুধু দখলদার উচ্ছেদ করলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। ফের যাতে একই জায়গায় বেআইনি দখল না হয়, তার জন্য লাগাতার নজরদারির নির্দেশ দিলেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তীর ডিভিশন বেঞ্চ।

বৃহস্পতিবার জনস্বার্থ মামলার শুনানিতে সশরীরে হাজির হয়ে উত্তর ২৪ পরগনার জেলাশাসক আদালতে অগ্রগতি রিপোর্ট পেশ করেন। শুনানিতে রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল সুরজিৎ নাথ মিত্র জানান, মোট ২৪টি বেআইনি নির্মাণের মধ্যে এখনও পর্যন্ত ১০টি সরানো হয়েছে। বাকি অংশে উচ্ছেদ অভিযান চলছে। তবে এদিন ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, উচ্ছেদের পর যদি সাত-দশ দিনের মধ্যেই ফের দখলদাররা ফিরে আসে, তা কোনওভাবেই বরদাস্ত করবে না হাইকোর্ট। জেলাশাসককে ব্যক্তিগতভাবে নজরদারির দায়িত্ব পালনের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

আদালতের পর্যবেক্ষণ, ‘রিপোর্টে দখল উচ্ছেদের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে সেই জায়গা পুনরায় দখলমুক্ত রাখা আরও গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যতে রিপোর্ট জমা দেওয়ার পর মামলাকারী লিখিত আপত্তিও জানাতে পারবেন।’ এদিন রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে আদালতে আশ্বাস দেওয়া হয়, ভবিষ্যতে নতুন করে কাউকে বসতে দেওয়া হবে না। যদিও মামলাকারীর আইনজীবীর দাবি, বাস্তবে এখনও কোনও দখলদারকেই সরানো হয়নি। তাঁর অভিযোগ, কেষ্টপুর থেকে দমদম পার্ক পর্যন্ত সেচ দপ্তরের জমি দখল করে বেআইনি বসতি গড়ে উঠেছে। লেকটাউন এলাকায় রাস্তার ধারে অবাধে গাড়ি পার্কিং চলছে।


তবে আদালতের মতে, মামলাকারীর উদ্যোগেই দীর্ঘদিনের স্থিতাবস্থায় পরিবর্তন এসেছে। প্রশাসন পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে। আগামী ১৮ আগস্ট মামলার পরবর্তী শুনানিতে ফের উত্তর ২৪ পরগনার জেলাশাসককে অগ্রগতি রিপোর্ট-সহ আদালতে হাজির থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, উল্টোডাঙা পর্যন্ত ভিআইপি রোডের দু’ধারে বেআইনি নির্মাণ ও জবরদখল সরানোর দাবিতে অর্ধেন্দু নাগ নামে এক ব্যক্তি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেন। এর আগে জেলাশাসক নিজে উপস্থিত না হয়ে লিগ্যাল অফিসারের মাধ্যমে রিপোর্ট পাঠানোয় আদালত অসন্তোষ প্রকাশ করেছিল। সেই কারণেই এদিন তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে হাজির হয়ে রিপোর্ট জমা দিতে হয়।