হাইকোর্টের নির্দেশের পরেও বেআইনি নির্মাণ ভাঙার কাজ হয়নি ,আদালত অবমাননার মুখে টাকি পুরসভা!

File Photo

কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশের পরেও টাকিতে ইছামতীর পাড়ে বেআইনি নির্মাণ ভাঙার কাজ সম্পূর্ণ হয়নি—এমন অভিযোগ উঠল। বিষয়টি নিয়ে ফের আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন আইনজীবী তন্ময় বসু। টাকি পুরসভার চেয়ারম্যান সোমনাথ মুখোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধেও আদালত অবমাননার রুল জারির আবেদন জানানো হয়েছে।

ইছামতী নদীর পাড়ে বেআইনি নির্মাণের অভিযোগে দায়ের হওয়া জনস্বার্থ মামলায় গত জুনে ডিভিশন বেঞ্চ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছিল। তিন সপ্তাহের মধ্যে বেআইনি নির্মাণ ভেঙে ফেলার পাশাপাশি, পরবর্তী শুনানিতে নির্দেশ কতটা কার্যকর হয়েছে, তার রিপোর্টও জমা দিতে বলা হয়েছিল।

এর পরেই টাকি পুরসভা ও প্রশাসনের তরফে ইছামতীর পাড়ে ‘টাকি সিটি গেস্ট হাউস’ এবং ‘দিশা গেস্ট হাউস’-এর বিরুদ্ধে ভাঙার কাজ শুরু হয়। পুরসভা সূত্রে দাবি, ওই দুই নির্মাণের ক্ষেত্রে বেআইনি দখল এবং অনুমোদন-বহির্ভূত নির্মাণের অভিযোগ ছিল। ভাঙার কাজ শেষ করতে পুর কর্তৃপক্ষ আদালতের কাছে তিন সপ্তাহ সময়ও চেয়েছিল।


অভিযোগ, সেই সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও এখনও সম্পূর্ণ নির্মাণ ভাঙার কাজ শেষ হয়নি। বিতর্কিত নির্মাণের একটি অংশ এখনও রয়ে গিয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। ফলে আদালতের নির্দেশ কতটা কার্যকর করা হয়েছে, তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

শুধু ওই দুই নির্মাণই নয়, টাকিতে আরও কয়েকটি হোটেল ও নির্মাণকে পুরসভার তরফে বেআইনি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল বলে আদালতে দাবি করেন আইনজীবী। সেগুলির বিরুদ্ধে এখনও কেন কোনও কার্যকর পদক্ষেপ করা হয়নি, সেই প্রশ্নও তোলা হয়েছে।

আদালতের নির্দেশ কার্যকর না করার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল জারির আবেদন করা হয়েছে। টাকি পুরসভার চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধেও একই প্রক্রিয়া শুরুর আবেদন জানানো হয়েছে।

আইনজীবী মহলের বক্তব্য, আদালতের নির্দেশ জেনেশুনে কার্যকর করা হয়নি কি না, সেটিই আদালত অবমাননার প্রশ্নে গুরুত্বপূর্ণ। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এবং পরবর্তী শুনানির পরেই বিষয়টির আইনি অবস্থান স্পষ্ট হবে।