হাওড়া পুরসভার ভবিষ্যৎ এখন নির্ভর করছে রাজ্যপালের একটি সইয়ের উপর। শনিবার পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় পাশ হয়েছে হাওড়া পুরসভা সংশোধনী বিল। বিলটি এখন পাঠানো হয়েছে লোক ভবনে রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের অনুমোদনের জন্য। তিনি সম্মতি দিলেই শুরু হবে ডিলিমিটেশন বা ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের কাজ। সব কিছু সময়মতো এগোলে চলতি বছরের ডিসেম্বরেই কলকাতা পুরসভার নির্বাচনের সঙ্গে হাওড়াতেও ভোট হওয়ার জোর সম্ভাবনা রয়েছে।
নতুন সংশোধনী বিল কার্যকর হলে হাওড়া পুরসভার ওয়ার্ড সংখ্যা ৫০ থেকে বেড়ে হবে ৬৬। অর্থাৎ ১৬টি নতুন ওয়ার্ড যুক্ত হবে। পুনর্বিন্যাসের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হলেই নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে আর প্রশাসনিক বাধা থাকবে না। রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তর সূত্রের খবর, ডিসেম্বরের আগেই সমস্ত প্রস্তুতি শেষ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। একই সময়ে নির্বাচন কমিশনও ওয়ার্ড চূড়ান্তকরণের কাজ শেষ করতে চাইছে, যাতে কলকাতা ও হাওড়ার ভোট একসঙ্গেই করা যায়।
প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ডিসেম্বরেই শেষ হচ্ছে কলকাতা পুরসভার মেয়াদ। তাই সেই সময়েই কলকাতা পুরসভার নির্বাচন হওয়ার কথা। প্রশাসনের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, ‘রাজ্যপাল বিলে অনুমোদন দিলেও এ বছর পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার নির্বাচন রয়েছে। নতুন সরকার গঠনের আগে হাওড়ায় পুরভোট সম্ভব নয়। তবে এই সময়কালে হাওড়ার নাগরিক পরিষেবা বন্ধ থাকবে না। প্রয়োজনীয় সমস্ত পরিষেবা পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরই দেবে।’
হাওড়া পুরনিগমে নির্বাচন দীর্ঘ দিন ধরে আইনি জটিলতায় আটকে রয়েছে। শেষবার ভোট হয়েছিল ২০১৩ সালে। ২০১৫ সালে বালি পুরসভাকে হাওড়া পুরসভার সঙ্গে যুক্ত করা হয়। সে সময় বালি পুরসভার ৩৫টি ওয়ার্ড ভেঙে ১৬টি ওয়ার্ড তৈরি করে হাওড়ার সঙ্গে মিলিয়ে দেওয়া হয়েছিল। পরে ২০২১ সালে নতুন সংশোধনী বিল এনে বালি ও হাওড়াকে আবার আলাদা করার সিদ্ধান্ত নেয় রাজ্য সরকার।
তৎকালীন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড় বালির অংশে আর্থিক ব্যয়ের হিসাব নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। সেই সময় নবান্ন ও রাজভবনের মধ্যে টানাপড়েনও তৈরি হয়েছিল। তবে বর্তমান সংশোধনী বিল বিধানসভায় পাশ হওয়ায় রাজ্য সরকারের দাবি, নির্বাচন সংক্রান্ত জটিলতা কাটার পথ খুলে গেল। এখন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত রাজ্যপালের হাতে।
হাওড়াবাসীর একাংশের আশা, দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে এ বছরই নতুন বোর্ড পাবে পুরসভা। তবে শেষ পর্যন্ত প্রশাসনিক সময়সূচি ও রাজনৈতিক সমীকরণ পর্যালোচনা করেই ভোটের দিনক্ষণ নির্ধারণ করা হবে।