উত্তর ২৪ পরগনার হালিশহরের এক প্রবীণ বিধবা মহিলা নিজের ছেলে ও পুত্রবধূর বিরুদ্ধে অভিযোগ করে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে। অভিযোগকারী বাড়ি ও দোকানঘর থেকে বলপূর্বক উচ্ছেদের চেষ্টা, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন এবং পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলেছেন।
অভিযোগকারী নির্মলা শীলের পক্ষের আইনজীবী পুনম বাসু ও আইনজীবী অমৃতাংশু সেনগুপ্তর দাবি, তাঁর স্বামী ২০১৯ সালের ২৮ মে কোনও উইল না করেই মারা যান। স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি ও তাঁর সন্তানরা হালিশহরের ধর্মবীর কলোনিতে অবস্থিত একটি বসতবাড়ি ও একটি দোকানঘরের যৌথ মালিক হন। অভিযোগ, সেই সম্পত্তির দখল নেওয়ার উদ্দেশ্যে তাঁর ছেলে ও পুত্রবধূ দীর্ঘদিন ধরে তাঁকে নানা ভাবে মানসিক ও শারীরিক হেনস্থা করে আসছেন।
আবেদনপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, অভিযুক্তরা বৃদ্ধা মায়ের ভরণপোষণের দায়িত্ব পালন না করে তাঁকে নিয়মিত শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতেন। এমনকী তাঁকে নিজের দোকানঘর থেকে জোর করে বের করে দেওয়া হয়। বাড়ি থেকেও উচ্ছেদের জন্য ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি করেন মেজো ছেলে ও তাঁর স্ত্রী।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৪ সালের ২৯ আগস্ট হালিশহর থানায় একটি এফআইআর দায়ের করা হয়। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে ফৌজদারি মামলা শুরু হলেও আবেদনকারীর দাবি, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে তাঁরা ওই বৃদ্ধার উপর অত্যাচার চালাতে থাকেন। পরবর্তীতে ২০২৬ সালের ২২ মে অভিযুক্ত ছেলে ও পুত্রবধূ কয়েকজন দুষ্কৃতীকে সঙ্গে নিয়ে বৃদ্ধার উপর শারীরিক আক্রমণ চালান বলে অভিযোগ। এরপর তাঁরা দোকানঘরে ঢুকে ভাঙচুর ও তছনছ করেন।
আবেদনকারীর অভিযোগ, এই ঘটনার পরও পুলিশকে একাধিকবার জানানো হয়েছিল। কিন্তু তাঁর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে পুলিশ ব্যর্থ হয়েছে। মঙ্গলবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে নির্মলা শীলের আইনজীবীদের আরও দাবি, তাঁকে একাধিকবার প্রয়োজনীয় খাবার ও ওষুধ দেওয়া হয়নি। একজন প্রবীণ বিধবার প্রতি এই ধরনের আচরণ তাঁর জীবন, নিরাপত্তা ও মর্যাদার ওপর গুরুতর আঘাত হেনেছে।
এদিকে, একই সম্পত্তি নিয়ে আবেদনকারীর ছেলে ও পুত্রবধূ অন্য উত্তরাধিকারীদের বিরুদ্ধে একটি দেওয়ানি মামলাও দায়ের করেছেন। যা বর্তমানে ব্যারাকপুরের দেওয়ানি আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। আবেদনকারীর অভিযোগ, তাঁর বিরুদ্ধে এবং পরিবারের অন্য সদস্যদের বিরুদ্ধেও পাল্টা অভিযোগ দায়ের করে তাঁদের হয়রানির চেষ্টা করা হচ্ছে।
পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগে বলা হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও নাগরিকের জীবন-সম্পত্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পুলিশের সাংবিধানিক ও আইনগত দায়িত্ব। কিন্তু এই ক্ষেত্রে পুলিশ সেই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে একজন প্রবীণ নাগরিকের জীবন ও স্বাধীনতা ঝুঁকির মুখে পড়েছে। এই প্রেক্ষাপটে অভিযোগকারী কলকাতা হাইকোর্টের কাছে আবেদন জানিয়েছেন, যাতে আদালত পুলিশকে অবিলম্বে কার্যকর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করার নির্দেশ দেয়। সেই সঙ্গে তাঁর জীবন ও সম্পত্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অভিযুক্তদের বেআইনি কার্যকলাপ রোধে যাতে প্রয়োজনীয় নির্দেশ প্রদান করা হয়।
বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য হালিশহর থানার পুলিশ আধিকারিকদের নির্দেশ দেন অবিলম্বে যাতে ওই বৃদ্ধার নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা হয়। ভবিষ্যতে যাতে কোনও ভাবেই ওই বৃদ্ধাকে তাঁর ছেলে বৌমা কোনও রকম সমস্যা সৃষ্টি করতে না পারে।