২০২৪ সালে বাংলাদেশে জেন-জি আন্দোলনের পর রাজ্যের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথিত আপত্তিকর মন্তব্যকে কেন্দ্র করে কলকাতা হাইকোর্টে দায়ের হওয়া জনস্বার্থ মামলায় মামলাকারীর আইনজীবীকে তীব্র ভর্ৎসনা করল আদালত। জনস্বার্থ মামলার সুযোগ নিয়ে আদালতকে ব্যক্তিগত হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে কি না, সেই প্রশ্নও তুলেছে হাই কোর্ট।
মঙ্গলবার ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী এবং বিচারপতি অতরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বেঞ্চে মামলাটির শুনানি হয়। শুনানিতে বেঞ্চের প্রশ্ন, “কেউ কিছু মন্তব্য করলেই তাতে আদালত হস্তক্ষেপ করবে কেন? জনস্বার্থ মামলাকে আপনারা ব্যক্তিগত হাতিয়ার বানিয়ে ফেলেছেন।”
শুধু মামলার বিষয়বস্তু নয়, মামলাকারীর পরিচয় এবং কী উদ্দেশ্যে তিনি মামলা দায়ের করেছেন, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি।
মামলাকারীর হয়ে আইনজীবী জানান, তাঁর মক্কেল একজন সচেতন নাগরিক। তাঁর দাবি, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যের জেরে জাতীয় নিরাপত্তা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। সেই কারণেই আদালতের হস্তক্ষেপ চেয়ে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এর পরেই মামলাকারীর দেওয়া চিঠির প্রসঙ্গ ওঠে। সেই চিঠির ভিত্তিতেই মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানান আইনজীবী। তখনই চিঠিতে একাধিক বানানভুলের প্রসঙ্গ তুলে আইনজীবীকে কড়া প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়। ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি বলেন, “সচেতন ব্যক্তি আপনাকে যে চিঠি দিয়েছে, যার ভিত্তিতে আপনি মামলা করেছেন, সেই চিঠিটাতে কতগুলো স্পেলিং ভুল আছে দেখেছেন? কলকাতা হাই কোর্টের আইনজীবীদের এই অবস্থা?”
মামলায় কেন্দ্রের অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল ধীরজ ত্রিবেদী জানান, শুধুমাত্র কোনও মন্তব্যের ভিত্তিতে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ) তদন্ত করতে পারে না। তাঁর বক্তব্য, এমন কোনও ঘটনা ঘটেনি, যার ভিত্তিতে এনআইএ তদন্তের প্রয়োজনীয়তা তৈরি হয়।
রাজ্যের পক্ষ থেকেও একই যুক্তি দেওয়া হয়। তাদের বক্তব্য, এফআইআর দায়েরের আগে দেখতে হবে আদৌ কোনও অপরাধ সংঘটিত হয়েছে কি না। সংশ্লিষ্ট ঘটনায় তেমন কোনও অপরাধের ঘটনা ঘটেনি বলেই দাবি করে রাজ্য।
দুই পক্ষের বক্তব্য শোনার পর মামলাটির রায় ১৪ সেপ্টেম্বর ঘোষণা করা হবে বলে জানায় আদালত।
মামলার শুনানিতে আদালতের পর্যবেক্ষণে কার্যত একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে— জনস্বার্থ মামলার মাধ্যমে আদালতের দ্বার খোলা থাকলেও, ব্যক্তিগত অভিযোগ, রাজনৈতিক বক্তব্য বা তার প্রতিক্রিয়াকে কেন্দ্র করে সেই আইনি প্রক্রিয়াকে কতটা ব্যবহার করা যায়? সেই প্রশ্নের উত্তরই আপাতত অপেক্ষা করছে ১৪ সেপ্টেম্বরের রায়ের দিকে।